রোজ বৃহস্পতিবার, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩৩


শিরোনামঃ
বরিশালে ২০২৫ পিস ইয়াবাসহ ইয়াবা ব্যাবসায়ী আটক বরিশালে ০৭ কেজি গাঁজা সহ আটক ০২ বিঘাই ও পায়রা নদীর ভাঙ্গন হতে শেখ হাসিনা সেনানিবাস এলাকা রক্ষা প্রকল্পটি পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি। চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বরিশালে ৩ কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি আটক ডেন্টালে জাতীয় মেধায় প্রথম হয়েছেন নাসরিন সুলতানা ইভা সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হলেন লাকুটিয়ার সন্তান সৌরভ রায়। মেহেন্দিগঞ্জে গলায় খাবার আটকে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু বরিশালে বিএমপি’র অভিযানে গাঁজাসহ দুই গাঁজা ব্যবসায়ী গ্রেফতার বরিশালে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক দুই।

জুমআর দিনের ফজিলত সমূহ

সালাতুল জুমআ। ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ। আর জুমআ হচ্ছে খুবই তাৎপর্য পূর্ণ একটি নামাজ। জুমু’আ শব্দটি আরবী। এর অর্থ একত্রিত হওয়া, সম্মিলিত হওয়া, কাতারবদ্ধ হওয়া। যেহেতু, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন শুক্রবারে প্রাপ্ত বয়স্ক মুমিন মুসলমান একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই স্থানে একত্রিত হয়ে জামাতের সঙ্গে সে দিনের যুহরের নামাজের পরিবর্তে এই নামাজ ফরযরুপে আদায় করে, সে জন্য এই নামাজকে ‘জুমার নামাজ’ বলা হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর মদিনায় যাওয়ার পর একবার মদিনার আনসার সাহাবিরা আলোচনায় বসেন। তারা বললেন , ইহুদিদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট রয়েছে, যে দিনে তারা সবাই একত্রিত হয়। নাসারারাও সপ্তাহে একদিন একত্রিত হয়। সুতরাং আমাদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যে দিনে আমরা সবাই সমবেত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করব, নামাজ আদায় করব।

মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে ফেরেশতারা অগ্রগামীদের নাম তালিকাভুক্ত করেনঃ জুমার সালাতে কারা অগ্রগামী, ফেরেশতারা এর তালিকা তৈরি করে থাকেন।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতা এসে হাজির হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সর্বাগ্রে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকে। প্রথম ভাগে যারা মসজিদে ঢুকেন তাদের জন্য উট, দ্বিতীয়বারে যারা আসেন তাদের জন্য গরু, তৃতীয়বারে যারা আসেন তাদের জন্য ছাগল, চতুর্থবারে যারা আসেন তাদের জন্য মুরগী, ও সর্বশেষ পঞ্চমবারে যারা আগমন করেন তাদের জন্য ডিম কুরবানী বা দান করার সমান সওয়াব লিখে থাকেন। আর যখন ইমাম খুৎবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে পড়েন ফেরেশতারা তাদের এ খাতা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যান।’ (বুখারী ৯২৯, ইফা ৮৮২, আধুনিক ৮৭৬)।


প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়ঃ যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুমার সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব লিখা হয়।

আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘জুমার দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।’ (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪, ১৬২১৮)।


দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারাঃ জুমার সালাত আদায়কারীদের জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।’ (মুসলিমঃ ২৩৩)।’
জুম্মার নামাজ না পড়লে যে শাস্তি:

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পরপর তিনটি জুমা বিনা ওজরে ও ইচ্ছা করে ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। (তিরমিযী,আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।

অপর এক হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন, জুমা ত্যাগকারী লোকেরা হয় নিজেদের এই খারাপ কাজ হতে বিরত থাকুক। (অর্থাৎ জুমার নামাজ আদায় করুক), নতুবা আল্লাহ তাআলা তাদের এই গোনাহের শাস্তিতে তাদের অন্তরের ওপর মোহর করে দেবেন। পরে তারা আত্মভোলা হয়ে যাবে। অতপর সংশোধন লাভের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়ে যাবে। (মুসলিম)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পর পর তিনটি জুমা পরিত্যাগ করবে, সে ইসলামকে পিছনের দিকে নিক্ষেপ করল। (মুসলিম)।

তবে আবার রাসূল (সা.) বলেছেন, চার শ্রেণির লোক ব্যতিত জুমআ’র নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গোনাহ। চার শ্রেণির লোক হল- ক্রীতদাস, স্ত্রীলোক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক, মুসাফির ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি। (আবু দাউদ)।

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১১ টি আমল। নিচে অনলগুলো দেয়া হলো-

১। আগে আগে ঘুম থেকে উঠা।

২। বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করা।

৩। আগে আগে মসজিদে আসা।

৪। দোয়া করা কারণ এদিনে দোয়া অধিক পরিমানে কবুল হয়।

৫। কাতার ভেঙে সামনে যাওয়া নিষেধ।

৬। সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা।

৭। গোসল করা।

৮। সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৯। পায়ে হেটে মসজিদ যাওয়া।

১০। খুতবার সময় চুপ থায়।

১১। তাহিয়াতুল মসজিদ আদায় করা।

মহান আল্লাহ তাআলা সবাইকে নিয়মিত জুমার নামাজ আদায় করে ভয়াবহ শাস্তি থেকে সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন।

সংকলণে এইচ এম রুহুল আমিন

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন-০১৮২২৮১৫৭৪৮