রোজ বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৫৯

শিরোনামঃ
মির্জাগঞ্জে ৬০ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতি সচলঃ এমপি জ্যাকব কলাপাড়ায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় স্কুল ছাত্র নিহত বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গাঁজা সহ পিতা-পুত্র গ্রেফতার। ইসরায়েলে ধর্মীয় উৎসবে পদদলিত হয়ে ৪৪ জনের প্রাণহানি হাসপাতাল পালানো সেই ১০ জনের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পরীক্ষার উদ্যোগ নেই দিল্লির শ্মশানে দীর্ঘ লাইন, মরদেহ ছিঁড়ে খাচ্ছে কুকুর অধিক দামে তরমুজ বিক্রয় করার অপরাধে ০৬ ব্যবসায়ীকে ৯,৭০০ টাকা জরিমানা বরিশালে তরমুজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন বাজারে মোবাইল কোর্ট অভিযানে ১৪ ব্যবসায়ীকে ১০৩০০ টাকা জরিমানা পাত্র করোনায় আক্রান্ত, পিপিই পরেই বিয়ে সারলেন কনে!
কবি বেগম সুফিয়া কামাল –এক কিংবদন্তীর নাম।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল –এক কিংবদন্তীর নাম।

ফিচারঃ কবি বেগম সুফিয়া কামাল –এক কিংবদন্তীর নাম।

আজ কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী। এই মহীয়সীর জন্মদিনে ধানসিঁড়ি নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বেগম সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতার নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন। তাঁর বাবা কুমিল্লার বাসিন্দা ছিলেন। যে সময়ে সুফিয়া কামালের জন্ম তখন বাঙালি মুসলিম নারীদের গৃহবন্দী জীবন কাটাতে হত। স্কুল-কলেজে পড়ার কোন সুযোগ তাদের ছিলো না। পরিবারে বাংলা ভাষার প্রবেশ একরকম নিষিদ্ধ ছিল। সেই বিরুদ্ধ পরিবেশে সুফিয়া কামাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি পারিবারিক নানা উত্থানপতনের মধ্যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে সুফিয়ার যখন সাত বছর বয়স তখন তাঁর বাবা সাধকদের অনুসরণে নিরুদ্দেশ যাত্রা করেন। ফলে তাকে নিয়ে তাঁর মা সাবেরা খাতুন অনেকটা বাধ্য হয়েই বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। এই কারণে তাঁর শৈশব কেটেছিল নানার বাড়িতে।
যে পরিবারে সুফিয়া কামাল জন্মগ্রহণ করেন সেখানে নারীশিক্ষাকে প্রয়োজনীয় মনে করা হত না। তাঁর মাতৃকুল ছিল শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবারের এবং সেই পরিবারের কথ্য ভাষা ছিল উর্দু। এই কারণে অন্দরমহলে মেয়েদের আরবি, ফারসি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলা শেখানোর কোন ব্যবস্থা ছিল না। তিনি বাংলা শেখেন মূলত তাঁর মায়ের কাছে। নানাবাড়িতে তাঁর বড় মামার একটি বিরাট গ্রন্থাগার ছিল। মায়ের উৎসাহ ও সহায়তায় এ লাইব্রেরির বই পড়ার সুযোগ ঘটেছিল তাঁর।
১৯২৪ সনে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে সুফিয়ার বিয়ে দেওয়া হয়। সৈয়দ নেহাল হোসেন অপেক্ষাকৃত আধুনিকমনস্ক ছিলেন, তিনি সুফিয়া কামালকে সমাজসেবা ও সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করেন। সাহিত্য ও সাময়িক পত্রিকার সঙ্গে সুফিয়া কামালের যোগাযোগও ঘটিয়ে দেন তিনি। সুফিয়া সে সময়ের বাঙালি সাহিত্যিকদের লেখা পড়তে শুরু করেন। ১৯১৮ সালে কলকাতায় গিয়েছিলেন সুফিয়া কামাল। সেখানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিলো। সুফিয়া কামালের শিশুমনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলো বেগম রোকেয়ার কথা ও কাজ। সুফিয়া কামালের কাজেকর্মেও ছাপ পাওয়া যায় বেগম রোকেয়ার।
সাহিত্যপাঠের পাশাপাশি সুফিয়া কামাল সাহিত্য রচনা শুরু করেন। ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ সে সময়ের প্রভাবশালী সাময়িকী সওগাতে প্রকাশিত হয়। ত্রিশের দশকে কলকাতায় অবস্থানকালে বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র প্রমুখের দেখা পান। মুসলিম নারীদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার জন্য বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলামে’ রোকেয়ার সঙ্গে সুফিয়া কামালের পরিচয় হয়। বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা ও প্রতিজ্ঞা তাঁর মধ্যেও সঞ্চারিত হয়, যা তাঁর জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচর্চা চলতে থাকে। ১৯৩৭ সালে তাঁর গল্পের সংকলন কেয়ার কাঁটা প্রকাশিত হয়। ১৯৩৮ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাঁঝের মায়ার মুখবন্ধ লেখেন কাজী নজরুল ইসলাম। বইটি বিদগ্ধজনের প্রশংসা কুড়ায় যাদের মাঝে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৯৩২ সালে তাঁর স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে আর্থিক সমস্যায় নিপতিত করে। তিনি কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৪২ সাল পর্যন্ত এ পেশায় নিয়োজিত থাকেন। এর মাঝে ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দিন আহমেদের সাথে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দেশবিভাগের পূর্বে কিছু কাল তিনি নারীদের জন্য প্রকাশিত তৎকালীন সময়ের সাড়া জাগানো সাময়িকী বেগমের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।
১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে জাতীয় সব সংকটে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক বিবেকের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন সুফিয়া কামাল। সামরিক শাসনের গণবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে, রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে, রবীন্দ্রশতবর্ষ উদ্‌যাপনের দাবিতে ও দাঙ্গা প্রতিরোধে সুফিয়া কামাল সামাজিক গণমানুষের সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় একাধারে ছায়ানট, কচিকাঁচার মেলা, পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংসদ প্রতিষ্ঠা ও নারী আন্দোলনের মহিলা সংগ্রাম পরিষদ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জাতীয় স্বাধিকার আন্দোলনের মূলধারায় নারী আন্দোলনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সুফিয়া কামাল। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জরুরি আইন প্রত্যাহার, দমননীতি বন্ধ, রাজবন্দীর মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশব্যাপী চলতে থাকা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি নারীসমাজের বৃহত্তর আন্দোলন অব্যাহত ধারায় সক্রিয় ছিল।
১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ইহজীবন অবসানের আগ পর্যন্ত সচেতনভাবে নারীর মানবাধিকার অর্জনের দাবি জানিয়ে নারী আন্দোলনকে আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-বৈষম্য-অসাম্য-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে সোচ্চার থাকা এবং অসহায়, দরিদ্র, নির্যাতিত নারীর শিক্ষা-কর্মসংস্থান-ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করার পথনির্দেশ দিয়ে গেছেন তিনি।
ক্ষণজন্মা এই নারী বাংলা সাহিত্যাঙ্গানকে করেছেন সমৃদ্ধশালী পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি-
# পাকিস্তান সরকারের তমঘা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬১) (প্রত্যাখান করেন ১৯৬৯)
# বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)
# সোভিয়েত লেনিন পদক (১৯৭০)
# একুশে পদক (১৯৭৬)
# নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৭৭)
# সংগ্রামী নারী পুরস্কার, চেকোশ্লোভাকিয়া (১৯৮১)
# মুক্তধারা পুরস্কার (১৯৮২)
# বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬)
# জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (১৯৯৫)
# দেশবন্ধু সি আর দাস গোল্ড মেডেল (১৯৯৬)
# স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৯৭)

গুগলের হোমপেজে গেলে আজ ২০ জুন চোখে পড়বে বিশেষ একটি লোগো। কবি বেগম সুফিয়া কামালের উপলক্ষে বিশেষ এ ডুডল প্রদর্শন করছে গুগল। ডুডলটি কেবল বাংলাদেশ থেকে দেখা যাচ্ছে। গতকাল বুধবার রাত ১২টার পর থেকে সুফিয়া কামালকে নিয়ে তৈরি ডুডলটি দেখাতে শুরু করে গুগল।

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে