ঢাকা 4:55 am, Sunday, 1 March 2026

“ঝিরঝির বাতাস, নারিকেল গাছের সারি আর অতীতের গল্প—লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি আজও জীবন্ত।”

ঐতিহ্যকে হারিয়ে ইতিহাস খুঁজে বেড়াই!
কখনো কখনো মনে হয়, আমরা নতুনের মোহে পুরোনোকে ভুলে যাই। অথচ সেই পুরোনোর দেয়ালেই লুকিয়ে থাকে আমাদের শিকড়, আমাদের পরিচয়। তেমনই এক শিকড়ের সন্ধানে ঘুরে এলাম বরিশালের ঐতিহ্যবাহী লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি।

🚗 যাত্রার শুরু
বরিশাল শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার উত্তরে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা। নতুন বাজার মড়ক খোলার পুল থেকে লাখুটিয়া গামী বাস, মাহেন্দ্রা, অটো কিংবা রিকশা—সবই পাওয়া যায়। অল্প সময়ের পথ, কিন্তু পথজুড়ে থাকে এক ধরনের কৌতূহল—কেমন হবে সেই জমিদার বাড়ি?

বাবুরহাটে নেমে পশ্চিম দিকে দু’মিনিট হাঁটলেই চোখে পড়ে প্রাচীন মন্দির আর স্মৃতিসৌধের সারি। আটচালা দেউল আর শিখর রীতির স্থাপত্য যেন অতীতের গৌরবের গল্প বলে চলে নীরবে।

🏛 ইতিহাসের ছোঁয়া
শোনা যায়, রাজা রূপচন্দ্র রায়ের হাত ধরেই এ অঞ্চলে জমিদারি প্রথার সূচনা। তাঁর পৌত্র রাজচন্দ্র রায়ের আমলে প্রতিষ্ঠা পায় এই জমিদার বাড়ি। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, ভগ্নপ্রায় দেয়ালগুলো আজও সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের।

প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ডান পাশে বিএডিসি অফিস, বাম পাশে শান বাঁধানো পুকুর। সামনে এগোলেই চোখে পড়ে জমিদার বাড়ির অবশিষ্ট অংশ। একসময় চারদিক ঘিরে দালান ছিল, মাঝখানে খোলা প্রাঙ্গণ—আজ আর সব নেই, কেবল কিছু স্মৃতি টিকে আছে।

🌾 প্রকৃতির শান্ত আলিঙ্গন
হাঁটতে হাঁটতে ভেতরের কৃষিক্ষেত চোখ জুড়িয়ে দেয়। মেঠোপথে একটু এগোতেই দেখা মেলে রাণীর দীঘি বা সারসী দীঘির। দীঘির পাড়ে দাঁড়ালে ঝিরঝির বাতাসে মনটা যেন প্রশান্ত হয়ে যায়। পশ্চিম পাড়ে আম ও মেহগনি বাগান—চাইলেই পিকনিকের জন্য আদর্শ স্থান। পূর্ব ও উত্তর পাশে রয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা পাওয়া যায়।

নারিকেল গাছের সারি ঘেরা পিচঢালা পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, প্রকৃতি যেন হাত বাড়িয়ে ডাকে—“ফিরে এসো শিকড়ে।”

💭 শেষকথা
লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ইতিহাস, স্থাপত্য আর প্রকৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। সময়ের অবহেলায় অনেক কিছু হারিয়েছে, তবু যা আছে—তাই আমাদের গর্বের জন্য যথেষ্ট।

নতুনের ভিড়ে পুরোনোকে ভুলে গেলে চলবে না। কারণ ঐতিহ্য হারালে ইতিহাসও হারিয়ে যায়।

একবার সময় করে ঘুরে আসুন—হয়তো আপনিও নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অতীতকে খুঁজে পাবেন। 🌿

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

“ঝিরঝির বাতাস, নারিকেল গাছের সারি আর অতীতের গল্প—লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি আজও জীবন্ত।”

আপডেট সময় : 04:07:15 pm, Saturday, 28 February 2026

ঐতিহ্যকে হারিয়ে ইতিহাস খুঁজে বেড়াই!
কখনো কখনো মনে হয়, আমরা নতুনের মোহে পুরোনোকে ভুলে যাই। অথচ সেই পুরোনোর দেয়ালেই লুকিয়ে থাকে আমাদের শিকড়, আমাদের পরিচয়। তেমনই এক শিকড়ের সন্ধানে ঘুরে এলাম বরিশালের ঐতিহ্যবাহী লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি।

🚗 যাত্রার শুরু
বরিশাল শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার উত্তরে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা। নতুন বাজার মড়ক খোলার পুল থেকে লাখুটিয়া গামী বাস, মাহেন্দ্রা, অটো কিংবা রিকশা—সবই পাওয়া যায়। অল্প সময়ের পথ, কিন্তু পথজুড়ে থাকে এক ধরনের কৌতূহল—কেমন হবে সেই জমিদার বাড়ি?

বাবুরহাটে নেমে পশ্চিম দিকে দু’মিনিট হাঁটলেই চোখে পড়ে প্রাচীন মন্দির আর স্মৃতিসৌধের সারি। আটচালা দেউল আর শিখর রীতির স্থাপত্য যেন অতীতের গৌরবের গল্প বলে চলে নীরবে।

🏛 ইতিহাসের ছোঁয়া
শোনা যায়, রাজা রূপচন্দ্র রায়ের হাত ধরেই এ অঞ্চলে জমিদারি প্রথার সূচনা। তাঁর পৌত্র রাজচন্দ্র রায়ের আমলে প্রতিষ্ঠা পায় এই জমিদার বাড়ি। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, ভগ্নপ্রায় দেয়ালগুলো আজও সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের।

প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ডান পাশে বিএডিসি অফিস, বাম পাশে শান বাঁধানো পুকুর। সামনে এগোলেই চোখে পড়ে জমিদার বাড়ির অবশিষ্ট অংশ। একসময় চারদিক ঘিরে দালান ছিল, মাঝখানে খোলা প্রাঙ্গণ—আজ আর সব নেই, কেবল কিছু স্মৃতি টিকে আছে।

🌾 প্রকৃতির শান্ত আলিঙ্গন
হাঁটতে হাঁটতে ভেতরের কৃষিক্ষেত চোখ জুড়িয়ে দেয়। মেঠোপথে একটু এগোতেই দেখা মেলে রাণীর দীঘি বা সারসী দীঘির। দীঘির পাড়ে দাঁড়ালে ঝিরঝির বাতাসে মনটা যেন প্রশান্ত হয়ে যায়। পশ্চিম পাড়ে আম ও মেহগনি বাগান—চাইলেই পিকনিকের জন্য আদর্শ স্থান। পূর্ব ও উত্তর পাশে রয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা পাওয়া যায়।

নারিকেল গাছের সারি ঘেরা পিচঢালা পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, প্রকৃতি যেন হাত বাড়িয়ে ডাকে—“ফিরে এসো শিকড়ে।”

💭 শেষকথা
লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ইতিহাস, স্থাপত্য আর প্রকৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। সময়ের অবহেলায় অনেক কিছু হারিয়েছে, তবু যা আছে—তাই আমাদের গর্বের জন্য যথেষ্ট।

নতুনের ভিড়ে পুরোনোকে ভুলে গেলে চলবে না। কারণ ঐতিহ্য হারালে ইতিহাসও হারিয়ে যায়।

একবার সময় করে ঘুরে আসুন—হয়তো আপনিও নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অতীতকে খুঁজে পাবেন। 🌿