অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বিপুল পরিমাণ চোরাই পাম অয়েলসহ ধরা পড়লেন এক কারবারি। যার মূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা। কিন্তু বিষয়টি যেন আইনের আওতায় আনা না হয় সে জন্য আটককারীদের তিনি অফার করলেন বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, উৎকোচের ওই অর্থসহই তাকে আটক করল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১১ এর অপরাধ দমন বিশেষ কম্পানির সদস্যরা।
জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব ১১ এর একটি আভিযানিক দল গতকাল গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানাধীন ছয়হিষ্যা নদী ঘাটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দলটি ২২০টি ড্রামে ৪১৮০০ লিটার চোরাই পাম ওয়েল উদ্ধার করে এবং চোরাইকাজে ব্যবহৃত ৩টি ইঞ্জিনচালিত তেলবাহী ট্রলার জব্দ করে।
এ সময় চোরাই তেলের ব্যাপারটি যেন আইনের আওতায় না আনা হয়, সে জন্য চোরাই তেলের কারবারি (মূলহোতা) মো. রফিকুল ইসলাম (৪২) র্যাব সদস্যদের ১০ লাখ টাকা ঘুষ (উৎকোচ) দেওয়ার চেষ্টা করে।
র্যাব সূত্র জানায়, এতে ফল হয় উল্টো। কেননা, আগে তার নামে শুধু চোরাই পাম অয়েল এর কারবারের মামলা হতো। এবার সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উৎকোচ প্রদানের চেষ্টার অভিযোগে আরেকটি মামলা হবে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১১ এর অপরাধ দমন বিশেষ কম্পানি (সিপিএসসি) প্রধান মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে সে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাম অয়েলসহ অন্যান্য ভোজ্য ও জ্বালানি তেল চোরাইভাবে কেনাবেচা করছে। এবং এই চোরাই পাম অয়েল সে নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার বিভিন্ন তেল ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করত। তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, তার নেতৃত্বে ছয়হিষ্যা ঘাটে বেশ কয়েকটি চোরাই পাম অয়েলের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এরা ছয়হিষ্যা ঘাট এলাকায় চলমান জাহাজ থেকে সুকৌশলে দীর্ঘদিন যাবৎ পাম অয়েলসহ অন্যান্য তেল চুরি করে আসছে। উক্ত চোরচক্র এই পাম অয়েলের সাথে ভেজাল তেল মিশিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করে।
মেজর সাকিব আরো জানান, মো. রফিকুল ইসলাম এই চোরাই পাম অয়েল সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এই চোরাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
বার্তা কক্ষ 







