ঢাকা 4:52 am, Friday, 6 March 2026

কালিয়াকৈরে পুত্রবধূ ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক

একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ; স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ভান্নারা এলাকায় পুত্রবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ। পারিবারিক আস্থার জায়গায় এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে শ্বশুর তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং সুযোগ পেয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক নির্যাতন করেন।
বিয়ের পর থেকেই কুপ্রস্তাব
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে পারিবারিকভাবে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয় অভিযুক্তের মেজো ছেলে সোহাগের সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুর বিভিন্ন সময়ে তাকে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম রোজার প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে শ্বশুর জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই ঘটনার পর রোজার আগেও এবং রোজার মধ্যেও আরও কয়েকবার একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বাধা দিলে জোর প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি পুলিশে অভিযোগ করলে পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অসুস্থ হয়ে বাবার বাড়ি, তারপর প্রকাশ পায় ঘটনা
একাধিকবার নির্যাতনের পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বাবার বাড়িতে যান। সেখানে মা–বাবার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন,
“আমার মেয়েকে চার-পাঁচবার জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি জানার পর আমরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্থানীয়দের হাতে আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন,
“পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
পারিবারিক পরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক কাঠামোর ভেতরে ক্ষমতার অসমতা অনেক সময় ভুক্তভোগীদের নীরব থাকতে বাধ্য করে। লজ্জা, ভয়, সামাজিক কলঙ্ক এবং হুমকি—এই বিষয়গুলো অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তবে ভুক্তভোগী সাহস করে বিষয়টি পরিবারকে জানানোয় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, আস্থার জায়গায় সংঘটিত এমন অপরাধ সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

কালিয়াকৈরে পুত্রবধূ ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক

কালিয়াকৈরে পুত্রবধূ ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক

আপডেট সময় : 04:02:22 pm, Thursday, 5 March 2026

একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ; স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ভান্নারা এলাকায় পুত্রবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ। পারিবারিক আস্থার জায়গায় এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে শ্বশুর তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং সুযোগ পেয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক নির্যাতন করেন।
বিয়ের পর থেকেই কুপ্রস্তাব
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে পারিবারিকভাবে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয় অভিযুক্তের মেজো ছেলে সোহাগের সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুর বিভিন্ন সময়ে তাকে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম রোজার প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে শ্বশুর জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই ঘটনার পর রোজার আগেও এবং রোজার মধ্যেও আরও কয়েকবার একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বাধা দিলে জোর প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি পুলিশে অভিযোগ করলে পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অসুস্থ হয়ে বাবার বাড়ি, তারপর প্রকাশ পায় ঘটনা
একাধিকবার নির্যাতনের পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বাবার বাড়িতে যান। সেখানে মা–বাবার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন,
“আমার মেয়েকে চার-পাঁচবার জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি জানার পর আমরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্থানীয়দের হাতে আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন,
“পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
পারিবারিক পরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক কাঠামোর ভেতরে ক্ষমতার অসমতা অনেক সময় ভুক্তভোগীদের নীরব থাকতে বাধ্য করে। লজ্জা, ভয়, সামাজিক কলঙ্ক এবং হুমকি—এই বিষয়গুলো অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তবে ভুক্তভোগী সাহস করে বিষয়টি পরিবারকে জানানোয় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, আস্থার জায়গায় সংঘটিত এমন অপরাধ সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।