ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নে গভীর রাতে দাদি ও নাতনিকে হত্যা এবং কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে বাড়ির উঠান ও পাশের সরিষা ক্ষেত থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিহতরা হলেন সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা (১৪)। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে কান্নার শব্দ শুনলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বাড়ির পাশের গম ও সরিষা ক্ষেতের আইল থেকে জামিলার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে জামিলার বাবা ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দাদি ও নাতনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা মধ্যরাতে ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দাদি বাধা দেন। এ সময় তাকে হত্যা করা হয়। পরে কিশোরীকে পাশের ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঈশ্বরদী সার্কেল পুলিশ-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তিনি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর থেকেই দাশুড়িয়া ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নিজ বাড়িতেও নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সমাজে নিরাপত্তাবোধ ভেঙে পড়বে।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ নৃশংস ঘটনায় পরিবার-পরিজনসহ এলাকাবাসী গভীর শোকাহত। নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
মোঃ সাইফুল ইসলাম 












