Notice: Trying to access array offset on value of type bool in /home/dnews/public_html/wp-content/plugins/wpecounterx/includes/class-views.php on line 68
লাখুটিয়ার কৃতি সন্তান শহীদ মইন উদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ঢাকা 12:04 am, Sunday, 7 June 2026
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী তরুণের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

লাখুটিয়ার কৃতি সন্তান শহীদ মইন উদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
আজ ১০ মার্চ। বরিশালের লাখুটিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান শহীদ মইন উদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশের ছাত্রসমাজের কাছে সাহস, প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপট
১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশজুড়ে স্বৈরশাসক হুসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটি।

ছাত্রদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাস এলাকায় হামলা, নির্যাতন ও সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটত। সেই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ১৯৮৬ সালের ১০ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলে সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় নিহত হন মইন উদ্দীন।

এক তরুণের সাহসী অবস্থান
ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে ছাত্রসমাজের কাছে এক সাহসী তরুণ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

তাঁর অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য শোকের কারণ নয়, বরং একটি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের বেদনাবিধুর স্মারক।

স্মৃতির প্রতি জাতীয় শ্রদ্ধা
শহীদ মইন উদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৮৭ সালে বরিশালের লাখুটিয়া গ্রামে তাঁর কবর জিয়ারত করতে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই সফর শহীদ তরুণের স্মৃতির প্রতি জাতীয় পর্যায়ের শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরিবারের স্মৃতিতে এক সাহসী মানুষ

পরিবারের কাছে মইন উদ্দীন শুধু একজন আপনজন নন, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাহসী মানুষের প্রতীক। তাঁর মতো অসংখ্য তরুণের ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের ইতিহাসই পরবর্তীতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে তাঁকে স্মরণ করছেন। তাঁর আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী তরুণের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

লাখুটিয়ার কৃতি সন্তান শহীদ মইন উদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : 09:18:02 am, Tuesday, 10 March 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক |
আজ ১০ মার্চ। বরিশালের লাখুটিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান শহীদ মইন উদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশের ছাত্রসমাজের কাছে সাহস, প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপট
১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশজুড়ে স্বৈরশাসক হুসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটি।

ছাত্রদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাস এলাকায় হামলা, নির্যাতন ও সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটত। সেই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ১৯৮৬ সালের ১০ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলে সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় নিহত হন মইন উদ্দীন।

এক তরুণের সাহসী অবস্থান
ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে ছাত্রসমাজের কাছে এক সাহসী তরুণ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

তাঁর অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য শোকের কারণ নয়, বরং একটি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের বেদনাবিধুর স্মারক।

স্মৃতির প্রতি জাতীয় শ্রদ্ধা
শহীদ মইন উদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৮৭ সালে বরিশালের লাখুটিয়া গ্রামে তাঁর কবর জিয়ারত করতে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই সফর শহীদ তরুণের স্মৃতির প্রতি জাতীয় পর্যায়ের শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরিবারের স্মৃতিতে এক সাহসী মানুষ

পরিবারের কাছে মইন উদ্দীন শুধু একজন আপনজন নন, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাহসী মানুষের প্রতীক। তাঁর মতো অসংখ্য তরুণের ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের ইতিহাসই পরবর্তীতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে তাঁকে স্মরণ করছেন। তাঁর আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।