নিজস্ব প্রতিবেদনঃ হাজারো দুঃসংবাদ আর উৎকন্ঠার মাঝে কিছু ভাল খবরও থাকে। সব পজিটিভ জীবনে শান্তি বয়ে আনেনা কিছু কিছু নেগিটিভও মানুষকে আন্দোলিত করে বইয়ে দেয় খুশির বারতা। ধারাবাহিক করোনা পজিটিভ যখন বরিশাল নগরীকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তখনই এল এ খুশির খবর। অর্থাৎ নতুন করে আর কোন করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি।
বরিশাল জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল ০৭ জুন তারিখে বরিশাল জেলায় নতুন করে কোনো করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা জীবাণুনাশক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে বন্ধ থাকায় এবং ঢাকার আইইডিসিআরে প্রেরিত নমুনার কোনো ফলাফল না আসায় আজ জেলায় করোনা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি।
গতকাল শনাক্ত হওয়া ৪৯ জন সহ অদ্যাবধি এ জেলায় মোট ৬১৫ জন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
গতকাল ০৭ জুন এ জেলায় করোনা আক্রান্ত ০২ জন ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করেছে। অদ্যাবধি এ জেলায় মোট ৬০ জন ব্যক্তি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ০৭ জুন এ জেলায় করোনা আক্রান্ত ০২ জন ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ০২ জন ব্যক্তিসহ অদ্যাবধি এ জেলায় ০৭ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন।
আবদুল খালেক খান (৫৫), চাঁদপাশা, বাবুগঞ্জের ০১ জন ব্যক্তি গত ০৫ জুন মৃত্যুবরণ করেন এবং ০৬ জুন তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া যায়। অপরদিকে, নির্মল (৫০) নামে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ০১ জন ব্যক্তি গত ০৩ জুন মৃত্যুবরণ করেন এবং ০৪ জুন তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া যায়।
গত ১২ এপ্রিল থেকে অদ্যাবধি বাবুগঞ্জ উপজেলায় ২৭ জন, সদর উপজেলায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ,নার্স ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্রসহ ৫০১ জন, উজিরপুর উপজেলায় ২০ জন, বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১৯ জন, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় ১০ জন, হিজলা উপজেলায় ০৫ জন, বানারীপাড়া উপজেলায় ০৯ জন, মুলাদী উপজেলায় ১০ জন, গৌরনদী উপজেলায় ০৬ জন, আগৈলঝাড়া উপজেলায় ০৮ জন করে মোট ৬১৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গতকাল ০৬ জুন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ০২ জন নার্স, ও ০১ জন মেডিকেল টেকনলজিস্টসহ ০৩ জন, জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ০১ জন নার্স, উপজেলা পবিবার পরিকল্পনা অফিসের ০১ জন স্টাফসহ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ০৫ জন ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ২২ জন চিকিৎসক (ইন্টার্ন চিকিৎসক ০৬ জন), ৪৩ জন নার্স, ০২ জন রেজিস্টার, ০১ জন নার্স সুপারভাইজার, ০৩ জন মেডিকেল টেকনলজিস্ট, ০২ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, ০১ জন স্টোরকিপার, ০১ জন ড্রাইভার, ১২ জন স্টাফ, ০১ জন কার্পেন্টার, ০১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সহ সর্বমোট ৮৯ জন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল এ জেলায় প্রথমবারের মতো মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ০২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পরিপ্রেক্ষিতে ঐদিনই জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
বার্তা কক্ষ 








