ঢাকা 10:57 am, Tuesday, 3 March 2026

নকল স্যানিটাইজারে বাজার সয়লাব, সর্তকতা অবলম্বনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ধানসিঁড়ি নিউজ: করোনাভাইরাসের মতো জীবাণু থেকে রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার হ্যান্ড স্যানিটাইজার, যা ব্যবহারে হাত জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। কিন্তু এই স্যানিটাইজার নকল করে বাজারজাত করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বিভিন্ন কোম্পানির নাম ব্যবহার করে এসব নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি হচ্ছে ফুটপাতসহ বিভিন্ন দোকানে। এসব নকল পণ্য ব্যবহারের কারণে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ তো দূরের কথা, উল্টো সংক্রমণ আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এসব পণ্য ব্যবহার করে অনেকে ভাবতে পারেন তিনি সুরক্ষিত আছেন কিন্তু নকল পণ্য ব্যবহারের কারণে মূলত তিনি ‘ফলস সিকিউরিটি’তে থাকবেন, যা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলার প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়েই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ফেসশিল্ডসহ নানা ধরণের সুরক্ষা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। তাৎক্ষণিকভাবে আসল ও নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পার্থক্য বোঝার কোনও উপায় নেই। প্রতিষ্ঠানের নাম, ব্যবহৃত উপাদান সবই উল্লেখ রয়েছে এসব স্যানিটাইজারের মোড়কে। এছাড়া বোতল ও তরলের রঙ দেখেও এগুলোকে চট করে নকল বলে শনাক্ত করা যায় না।
অনেক সময় এসব পণ্যে বিভিন্ন ক্যামিকেল কোম্পানির নাম ব্যবহার করা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ঐসকল কোম্পানির কোনো প্রোডাক্ট বাজারে ছাড়েনি তারা, একাধিক কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা একথা জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২২ মার্চ থেকে নকল মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিক্রি বন্ধে মাঠে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুম আরেফিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে নকল পণ্য ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি। তিনি বলেন, ‘কেউ জেনে বুঝে নকল পণ্য ব্যবহার করতে চায় না। যখন কেউ নকল পণ্য কিনে তা ব্যবহার করবেন, তখন তিনি ভাববেন যে তিনি সুরক্ষিত আছেন, তার হাত জীবাণুমুক্ত আছে। এতে ফলস সিকিউরিটি তৈরি হবে। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা, কোনও কিছু স্পর্শ করার পর এসব নকল পণ্য ব্যবহার করে নিজেকে সুরক্ষিত মনে করে কেউ যখন আবার অন্য কিছু ধরবেন, তখন বিপত্তি ঘটবে। যদি প্রথম স্পর্শ করা বস্তু বা পণ্যে করোনার মতো ভাইরাস থেকে থাকে এবং তা স্পর্শ করার পর নকল পণ্য ব্যবহার করে কেউ হাত জীবানুমুক্তের চেষ্টা করেন তাহলে তা ব্যর্থ হবে।’

ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ফুটপাত বা যেকোনও জায়গা থেকে সুরক্ষাসামগ্রী না কিনে ফার্মেসি বা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি। তিনি বলেন, ‘মানুষকেও সচেতন হতে হবে। রাস্তাঘাটে অনেক কবিরাজির ওষুধও পাওয়া যায়। এগুলো কেনা যাবে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো পণ্য ফার্মেসি থেকে কেনা নিরাপদ।’ ফার্মেসিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুণগত মানসম্পন্ন সুরক্ষাপণ্য বিক্রি করছে কিনা তা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা: Ali Khamenei-এর রাজনৈতিক পথচলা

নকল স্যানিটাইজারে বাজার সয়লাব, সর্তকতা অবলম্বনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

আপডেট সময় : 07:56:47 am, Sunday, 14 June 2020

ধানসিঁড়ি নিউজ: করোনাভাইরাসের মতো জীবাণু থেকে রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার হ্যান্ড স্যানিটাইজার, যা ব্যবহারে হাত জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। কিন্তু এই স্যানিটাইজার নকল করে বাজারজাত করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বিভিন্ন কোম্পানির নাম ব্যবহার করে এসব নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি হচ্ছে ফুটপাতসহ বিভিন্ন দোকানে। এসব নকল পণ্য ব্যবহারের কারণে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ তো দূরের কথা, উল্টো সংক্রমণ আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এসব পণ্য ব্যবহার করে অনেকে ভাবতে পারেন তিনি সুরক্ষিত আছেন কিন্তু নকল পণ্য ব্যবহারের কারণে মূলত তিনি ‘ফলস সিকিউরিটি’তে থাকবেন, যা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলার প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়েই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ফেসশিল্ডসহ নানা ধরণের সুরক্ষা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। তাৎক্ষণিকভাবে আসল ও নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পার্থক্য বোঝার কোনও উপায় নেই। প্রতিষ্ঠানের নাম, ব্যবহৃত উপাদান সবই উল্লেখ রয়েছে এসব স্যানিটাইজারের মোড়কে। এছাড়া বোতল ও তরলের রঙ দেখেও এগুলোকে চট করে নকল বলে শনাক্ত করা যায় না।
অনেক সময় এসব পণ্যে বিভিন্ন ক্যামিকেল কোম্পানির নাম ব্যবহার করা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ঐসকল কোম্পানির কোনো প্রোডাক্ট বাজারে ছাড়েনি তারা, একাধিক কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা একথা জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২২ মার্চ থেকে নকল মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিক্রি বন্ধে মাঠে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুম আরেফিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে নকল পণ্য ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি। তিনি বলেন, ‘কেউ জেনে বুঝে নকল পণ্য ব্যবহার করতে চায় না। যখন কেউ নকল পণ্য কিনে তা ব্যবহার করবেন, তখন তিনি ভাববেন যে তিনি সুরক্ষিত আছেন, তার হাত জীবাণুমুক্ত আছে। এতে ফলস সিকিউরিটি তৈরি হবে। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা, কোনও কিছু স্পর্শ করার পর এসব নকল পণ্য ব্যবহার করে নিজেকে সুরক্ষিত মনে করে কেউ যখন আবার অন্য কিছু ধরবেন, তখন বিপত্তি ঘটবে। যদি প্রথম স্পর্শ করা বস্তু বা পণ্যে করোনার মতো ভাইরাস থেকে থাকে এবং তা স্পর্শ করার পর নকল পণ্য ব্যবহার করে কেউ হাত জীবানুমুক্তের চেষ্টা করেন তাহলে তা ব্যর্থ হবে।’

ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ফুটপাত বা যেকোনও জায়গা থেকে সুরক্ষাসামগ্রী না কিনে ফার্মেসি বা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি। তিনি বলেন, ‘মানুষকেও সচেতন হতে হবে। রাস্তাঘাটে অনেক কবিরাজির ওষুধও পাওয়া যায়। এগুলো কেনা যাবে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো পণ্য ফার্মেসি থেকে কেনা নিরাপদ।’ ফার্মেসিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুণগত মানসম্পন্ন সুরক্ষাপণ্য বিক্রি করছে কিনা তা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।