রোজ শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:২৬


শিরোনামঃ
বরিশালে চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের মানববন্ধন বি এম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে বি এম কলেজ অর্থনীতি বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর মোঃ ইসহাক আলী খন্দকার ও সম্পাদক মোঃ আখতারুজ্জামান খান গভীর শোক প্রকাশ একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী’র শোক প্রকাশ অর্থনীতি বিভাগ বিতর্ক ক্লাবের আয়োজনে ‘ক্যারিয়ার’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ আর নেই। উজিরপুরে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত কিশোর প্রেমের গল্প (১ম পর্ব) শর্তময় ভালোবাসার শেষ পরিনতি (শেষ পর্ব) শর্তময় ভালোবাসার শেষ পরিনতি (২য় পর্ব) ঈদ উল আযহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত|| নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকছে চেকপোস্ট
স্ত্রীর ভিক্ষার টাকায় সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা হাশেম শেখের

স্ত্রীর ভিক্ষার টাকায় সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা হাশেম শেখের

অনলাইন ডেস্কঃ স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ৪৮ বছর পরে আজও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি আবুল হাশেম খান (৯০)। মৃত্যুর আগে হলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তত নিজের নামটা দেখে যেতে চান। তিনি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামের মৃত আবদুল জব্বার শেখের ছেলে।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম শেখ ৪ শতাংশ জমির ওপর তৈরি এক জরাজীর্ণ বাড়িতে বাস করেন। বয়সের ভারে ভেঙে পড়েছেন, অধিকাংশ সময় অসুস্থ থাকেন। স্ত্রী মহিরণ বেগমই এখন তার একমাত্র ভরসা, স্ত্রীর ভিক্ষায় চলে তার সংসার।

একাত্তরে ৮নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন আবুল হাশেম। সে সময় আঞ্চলিক বাহিনীর অধিনায়ক গোলাম ইয়াকুব (বীরপ্রতীক)’র নেতৃত্বে একাধিক অপারেশনে অংশ নেন। নৌকায় করে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে বেড়াতেন। রণাঙ্গনে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সালের আগস্ট মাসের ৯ তারিখ তিনি আবেদন করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য। মহম্মদপুর ও শালিখা বাহিনীর যুদ্ধকালীন আঞ্চলিক অধিনায়ক বীরপ্রতীক গোলাম ইয়াকুব মিয়া কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রসহ মাগুরা জেলা ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার আলী রেজা খোকন ও ইউনিয়ন কমান্ডার আবদুল গফুর মোল্লার সাক্ষরসহ তার মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যায়নপত্র রয়েছে।

একাধিক দপ্তরের সনদ তার সংগ্রহে থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম ওঠেনি। তাই তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন, মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়ার।

আবুল হাসেম শেখ অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য আমাদের ইউনিট কমান্ডার গফুর মোল্লা ছয় বছর আগে সাড়ে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। আর সেই টাকাও ফেরত দেননি। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান আমার চেক বই নিয়ে আমার নামে আসা অনুদানের ৩৬ হাজার টাকা তুলে আমাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা দেন। তবে গফুর মোল্লা ও চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল হাই মিয়া বলেন, হাশেম শেখ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে তিনি কেন তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, সে বিষয়ে আমি জানি না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক মোঃ আসিফুর রহমান বলেন, যেহেতু আদালতের নির্দেশে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে, সেহেতু আপাতত কিছুই করার নেই। তবে প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন-০১৮২২৮১৫৭৪৮