রোজ মঙ্গলবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:২৭

লাখুটিয়া জমিদার বাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

লাখুটিয়া জমিদার বাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বরিশাাল হলো নদী বিদৌত একটি শহর যার চারপাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদী। আর এই বরিশাল জেলায় রয়েছে অসংখ্য জমিদার বাড়ি।আর এই জমিদার বাড়ির মধ্যে বিখ্যাত হল,“লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি”। বরিশাল শহর হতে উত্তর দিকে প্রায় আট কিলোমিটার যাওয়ার পর লাখুটিয়া বাজার। শহর হতে এই বাজার যাওয়ার পথে লাখুটিয়া বাজারের কিছু আগে বাবুর হাট । বাবুর হাট থেকে ইট বিছানো পথ ধরে পশ্চিম দিকে এগিয়ে গেলে ই সামনে পরবে লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি।

বাবুরহাট মোড় থেকে ইট বিছানো পথ ধরে এগিয়ে গেলে হাতের ডান পাশেই পাবেন লাখুটিয়া’র জমিদার দের মন্দির আর সমাধি সৌধ। এই স্থাপনা গুলোর বেশীর ভাগই আটচালা দেউল রীতিতে তৈরি। শিখর রীতির কিছু মন্দির ও চোখে পড়বে। কয়েকটি মন্দির এখনো প্রায় অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে। খোসাল চন্দ্র রায় লিখিত বাকেরগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি’র জমিদারদের আদিপুরুষ ছিলেন রূপচন্দ্র রায় নামক জনৈক ব্যাক্তি। তার হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পায় লাখুটিয়া জমিদার বংশ।

পরবর্তীতে রূপ চন্দ্র’র পৌত্র রাজ চন্দ্র রায়ের সময় কাল হতে লাখুটিয়া’র জমিদার দের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। বর্তমানে যে জমিদার বাড়ীটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তা এই রাজচন্দ্র রায়ের সময়ই তৈরি হয়েছিল। জমিদার রাজ চন্দ্র তার জমিদার বাড়ি হতে কিছু দূরে একটি হাটের গোড়াপত্তন করেছিলেন। এই হাটই বাবুর হাট নামে পরিচিত ছিল।

রাজচন্দ্র ছিলেন প্রজা সদ্য় একজন জমিদার। জমিদার শব্দটি শুনলে যেমন অত্যাচারী একজন শাসকের চেহারা ভেসে উঠে, রাজচন্দ্র ছিলেন সম্পূর্ণ তার বিপরীত। তিনি তার জমিদারীর পুরোটা সময় জুড়ে সজাগ ছিলেন প্রজাদের উন্নয়নের দিকে। জেলা শহর বরিশালের সাথে যে সংযোগ সড়ক রয়েছে লাখুটিয়ার, তা এই রাজচন্দ্রের সময় তৈরীকৃত। তার সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাস উৎসব ঘটা করে উদযাপিত হত, পালিত হত ১লা বৈশাখ সহ সব অনুষ্ঠান।

লাখুটিয়া জমিদারদের সব থেকে সুন্দর স্থাপনা হলো মন্দির গুলো। সবচেয়ে উঁচু মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পংকজকুমার রায় চৌধুরী তাঁর স্বর্গীয় পিতা সুরেন্দ্রকুমার রায় চৌধুরী এবং মাতা পুষ্পরানী রায় চৌধুরানীর পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করেছেন। লোহার দরজা পেরিয়ে জমিদারবাড়ির মূল প্রবেশ পথের বাঁ পাশে রয়েছে শান বাঁধানো ঘাটওলা সুন্দর একটি পুকুর। জমিদার বাড়িটি এখন বিএডিসির তত্ত্বাবধানে আছে। বাঁ পাশে বিএডিসির ট্রাক্টর রাখার ঘর আর ডান পাশে তাঁদের গোডাউন আর অফিস কক্ষ। পেছনে আছে পাকা উঠান,বীজ শুকানো হয়। বাড়ির তিন ধারে ধানের জমি।

এখানেই এখন নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ কোল্ড স্টোরেজ কাম গুদাম।যেখানে যাবতীয় ধানের বীজ সংরক্ষণ করে সমস্ত বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়।

জমিদার বাড়ির ভিতর দিয়ে কিছু দূর পথ হেটে গেলেই সামনে পরবে একটি বড় দীঘি। যা সারসী দীঘি নামে সমধিক পরিচিত। এই দীঘির পশ্চিম পাড়ে রয়েছে আম বাগান এবং সারিবদ্ধ মেহেগনি গাছ। এক সময় এখানে পিকনিক স্পট ছিল।পূৃর্ব পাড়ে রয়েছে একটি সরকারী নার্সারি এখানে সকল প্রকারের গাছ পাওয়া যায়।
এখানে প্রকৃতির খুব কাছে থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশে শহুরে কোলাহল মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবার সহ ঘোরার এক নিরাপদ স্থান।

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশাল যাওয়ার অনেক লঞ্চ মেলে। ভাড়া ২৫০-২৫০০ টাকা (ডেক-কেবিন)। নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড বা লঞ্চ ঘাট থেকে প্রথমে যেতে হবে মড়ক খোলার পোল। সেখান থেকে লাখুটিয়া বাবুরহাটে যাওয়ার টেম্পো,অটো,রিক্সা, মাহিন্দ্রা, হোন্ডা এবং বাস পাওয়া যায়। অটো ভাড়া ১৫টাকা, মাহিন্দ্রা ভাড়া ১৫টাকা,হোন্ডা ভাড়া ২৫ টাকা, সর্বোপরি বাস ভাড়া ১০ টাকা।

তথ্য সূত্র: বরিশালের জমিদার বাড়ি।
সম্পাদনা : মোঃ সাইফুল ইসলাম
ইমেইল :Bslmdsaifulislam1985gmail.com