রোজ রবিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:২৮

শিরোনামঃ
বরিশালে ঘুরতে এসে বাসের চাপায় প্রাণ গেল তিন জনের দীর্ঘদিন বন্ধের পরে আজ খুলেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরিশালে ৬ ফার্মেসিকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা বিশেষ কায়দায় ফেনসিডিল বহন করেও শেষ রক্ষা হলো না তাদের, বিএমপি’র অভিযানে আটক ৪। দুইজন নারী ও ফেন্সিডিলসহ বরিশালে মাদক ব্যবসায়ী বুলেট গ্রেফতার কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার একজন বিএমপি’র অভিযানে ৪৫ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার ০২ বরিশালে লকডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ জনকে আটক। মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর- অভিযুক্ত গ্রেফতার নগদের ৮ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন, ডিএসও নুরুল্লাহ গ্রেফতার।
ভূমি জড়িপের সাতকাহন

ভূমি জড়িপের সাতকাহন

ভূমি জরিপ: CS, RS, PS, BS সমন্ধে জেনে রাখুনঃ

ভূমি জরিপ/রেকর্ড : ভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত। আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey Act, 1875 এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের জরিপ বিভাগ সরেজমিন জরিপ করে ভূমির মালিকানার যে বিবরণ এবং নকশা তৈরী করে তাই রেকর্ড বা জরিপ। অর্থাৎ রেকর্ড বা জরিপ হচ্ছে মালিকানার বিরবণ এবং নকশার সমন্বয়।

একটি ভূমির মালিক কে এবং তার সীমানা কতটুকু এটা ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা/ম্যাপ নির্ণয় করা হয়। এই নকশা এবং ম্যাপ অনুসারে মালিকানা সম্পর্কিত তখ্য যেমন ভূমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত, এর খতিয়ান নাম্বার, ভূমির দাগ নাম্বার, মালিক ও দখলদারের বিবরণ ইত্যাদি প্রকাশিত হয় যাকে খতিয়ান বলে। রেকর্ড বা জরিপ প্রচলিতভাবে খতিয়ান বা স্বত্ত্বলিপি বা Record of Rights (RoR) নামেও পরিচিত। রেকর্ড বা জরিপের ভিত্তিতে ভূমি মালিকানা সম্বলিত বিবরণ খতিয়ান হিসেবে পরিচিত, যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান, ইত্যাদি।

আমাদের দেশে পরিচালিত ভূমি জরিপ বা রেকর্ড গুলো হচ্ছে;
1. CS -Cadastral Survey
2. SA- (1956)
3. RS -Revitionel Survey
4. PS – Pakistan Survey
5. BS- Bangladesh Survey (1990)

ক) সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)
“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপে বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের দশম অধ্যায়ের বিধান মতে দেশের সমস্ত জমির বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করার এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করার বিধান করা হয়। প্রথম জরিপ হলেও এই জরিপ প্রায় নির্ভূল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।

খ) এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)
১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় এরং রায়েতের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জমিদারদের প্রদেয় ক্ষতিপুরণ নির্ধারন এবং রায়তের খাজনা নির্ধারনের জন্য এই জরিপ ছিল। জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

গ) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)
সি. এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমি, মলিক এবং দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। পূর্বেও ভুল ত্রুটি সংশোধনক্রমে আর. এস জরিপ এতই শুদ্ধ হয় যে এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আর, এস জরিপের উপর নির্ভর করা হয়। এর খতিয়ান ও ম্যাপের উপর মানুষ এখনো অবিচল আস্থা পোষন করে।

ঘ) সিটি জরিপ (City Survey)
সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কতৃক অনুমতিক্রমে এ জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এযাবৎ কালে সর্বশেষ ও আধুনিক জরিপ এটি। এ জরিপের পর্চা কম্পিউটার প্রিন্টে প্রকাশিত হয়।