রোজ বৃহস্পতিবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৪৫

পাত্র করোনায় আক্রান্ত, পিপিই পরেই বিয়ে সারলেন কনে!

পাত্র করোনায় আক্রান্ত, পিপিই পরেই বিয়ে সারলেন কনে!

নিউজ ডেস্কঃঃকথায় আছে জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে। জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে যে কোথায়, কোনো পরিস্থিতিতে, কার সঙ্গে হবে তা নাকি সবই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে।

বিয়ের সব ধরনের কথাবার্তা পাকাপাকি, শুধু আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন বাকি। এর মধ্যেই খবর এলো পাত্র করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয়েছে কোভিড হাসপাতালে। কিন্তু তাতে কী! বিয়ের কাজ তো আর করোনার সংক্রমণ থামাতে পারবে না।

শেষ পর্যন্ত আগের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ীই বিয়ে হয় ওই যুগলের। তবে, সেটা বাড়িতে নয় হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে।

পাত্র কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুয়িপমেন্ট (পিপিই) কিট পরেই হাসপাতালেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে কনেকে।

এই অবাক করা ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার আলাপ্পুঝা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত পাত্রকে হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে পিপিই কিট পরেই বিয়ে করতে আসেন কনে। পাত্র কেরালা রাজ্যের আলাপ্পুঝার কাইনাকারী এলাকার বাসিন্দা শরথ মন (২৮)। আর পাত্রী থেক্কানারইয়াদের আভিরামি (২০)। রোববার (২৫ এপ্রিল) এ খবর দিয়েছে সংবাদসংস্থা এএনআই। রোববার ওই যুগলের বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিলো। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন আগেই করোনায় আক্রান্ত হয় শরথ ও তার মা। চিকিৎসার জন্য তাদের আলাপ্পুঝার মেডিক্যাল কলেজের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপরই দুই পক্ষের মাথায় হাত পড়ে। কারণ বিয়ের অনুষ্ঠান দিন পাত্র বিয়ের আসরের বদলে ভর্তি রয়েছেন কোভিড হাসপাতালে। সেক্ষেত্রে বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিলো না। তবে, দুই পরিবারই ঠিক করে বিয়ে হবে। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিয়ের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায় উভয় পরিবার। দুইপক্ষ থেকেই দেওয়া হয় অনুমতি। শেষ পর্যন্ত আগের নির্ধারিত তারিখেই হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে কনে আভিরামিকে বিয়ে করেন শরথ।

ইতোমধ্যেই ওই যুগলের বিয়ের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শাড়ি-গহনায় সেজে নয়, পিপিই কিট পরে বিয়ে করতে এসেছেন কনে আভিরামি। শরথের পরনে নীল জামা এবং প্যান্ট। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের অল্প কয়েকজন সদস্যদের উপস্থিতিতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়