রোজ বৃহস্পতিবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৫৩

নগদের ৮ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন, ডিএসও নুরুল্লাহ গ্রেফতার।

নগদের ৮ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন, ডিএসও নুরুল্লাহ গ্রেফতার।

মনিরুল ইসলাম।। ব্লেড দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করেও শেষ রক্ষা হলো না তার। ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে অবশেষে ধরা খেল পুলিশের হাতে।

গতকাল ১৮-০৭-২১ খ্রিঃ বরিশাল শহরের বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে ঘুরে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ এর টাকা কালেকশন করার সময় আনুমানিক রাত ৮ ঘটিকায় নগরীর বৈদ্য পাড়ায় ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই করে নেয় মার্কেট থেকে সংগৃহীত নগদ প্রায় ৮ লক্ষ টাকা।

ঈদুল আযহার পূর্বে ৮ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের সংবাদ খুব স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তাই সংবাদ পেয়ে খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও ক্রাইমসিন পর্যালোচনা,ভিকটিম নুরুল্লাহ মোমেনের দেওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনার বিবরন,ভিকটিমের শরীরের আঘাতের ধরন, ভিকটিম যেই পথে চলাচল করেছে সে সমস্ত পয়েন্টে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক পূর্বে স্থাপিত সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশের কাছে ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক মনে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি চৌকস টিম রাতভর ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। নিবিঢ় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রাত আনুমানিক ৪:৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম নুরুল্লাহ মোমেন স্বীকার করেন যে আসলে তিনি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েননি,আর তার সাথে কোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। মূলত তিনি নিজেই তার ডান হাতের বাহুতে ব্লেড দিয়ে পোঁচ দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়েছেন।

চাকুরীতে ঢোকার পূর্বেই অভিযুক্ত(কথিত ভিকটিম) তার এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার করা প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা তিনি চাকরিতে ঢোকার পর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর “জি টু কনসোর্টিয়াম” এর মার্কেট থেকে বিভিন্ন সময় ধীরে ধীরে সরিয়ে পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ করেছেন।

অপরদিকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর”জি টু কনসোর্টিয়ামে এই ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার হিসাব বোঝানোর জন্যই তিনি এই ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন। এই ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ভিকটিম যখন তার অফিসের অপর ডিএসও হাফিজের মোবাইল ফোন দিয়ে ম্যানেজার সেলিম খানকে ঘটনা জানান তখন ম্যানেজার সেলিম খান তাকে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার পরিবর্তে টাকার অংক বাড়িয়ে ৮ লক্ষ টাকা বলতে বলেন।

তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযুক্ত (কথিত ভিকটিম) নুরুল্লাহ মোমেন, পিতা- রুহুল আমিন, মাতা- আমেনা বেগম বিউটি, সাং- মধ্য নিয়ামতি (টহরকোলা হাওলাদার বাড়ী), থানা বাকেরগঞ্জ,জিলা- বরিশাল কে সাথে নিয়ে তার বের করে দেওয়া মতে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বৈদ্যপাড়া রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে একটি Gillette Wilkinson sword ব্লেড যা দিয়ে সে তার হাতে পোঁচ দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করেছে ও একটি কালো রঙের ব্যাগ উদ্ধার করেন।

ঈদুল আযহার পূর্বে এ ধরনের একটি ছিনতাইয়ের সংবাদ খুব স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে, তাই ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পুলিশ কমিশনার বিএমপি মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার ঘটনাটির তদন্ত পূর্বক অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করলে, উপ-পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ মোঃ মোকতার হোসেন পিপিএম-সেবার সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ মোঃ ফজলুল করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার শারমিন সুলতানা রাখি, অফিসার ইনচার্জ কোতোয়ালি মডেল থানা নূরুল ইসলাম পিপিএম, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আসাদুজ্জামান সহ কোতোয়ালি মডেল থানার একটি চৌকস টিমের পেশাদারিত্ব ও নিরলস প্রচেষ্টায় একটি সাজানো ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়। অভিযুক্ত নুরুল্লাহ মুমেনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।