রোজ রবিবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:০৪


ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া গভর্নিং বডির সদস্য নয়

ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া গভর্নিং বডির সদস্য নয়

অলাইন ডেস্ক: ইচ্ছা করলেই কেউ যাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সদস্য হতে না পারেন সেজন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বিধান রাখা হচ্ছে। কমিটির সদস্য হতে হলে ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক পাসের প্রস্তাব করে এ সংক্রান্ত খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালা-২০০৯ পরিবর্তন করে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একাধিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, বিধি মোতাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালা-২০০৯ পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ কমিটি প্রবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা পরিবর্তন করে খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আগামী সপ্তাহে এটি আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়া হবে।
খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সদস্য হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় অনেক অযোগ্য ব্যক্তি বা অভিভাবক সদস্য হয়ে যাচ্ছেন। এতে সেই প্রতিষ্ঠান চালাতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, আইন অমান্য করে নিজেদের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সাধারণ শিক্ষকরাও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক স্থানে আবার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বিরোধও তৈরি হচ্ছে।
ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সদস্য হতে হলে তার যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক পাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া প্রতিবেদনে।
খসড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিভাবক সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে প্রতিষ্ঠানের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে। প্রতিষ্ঠানও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
অ্যাডহক কমিটির বিষয়ে সেখানে বলা হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে কমিটির নির্ধারিত দুই বছর মেয়াদ শেষে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে প্রবিধানে বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে এ কমিটি বিধি মোতাবেক নির্বাচন আয়োজন করবে এবং নিয়মিত কমিটি গঠন করে তাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে এর ব্যত্যয় ঘটছে। অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব ধরে রাখতে তাদের অর্পিত দায়িত্ব থেকে সরে আসছেন। নির্ধারিত সময়ের পরও নিজেরাই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এ কারণে অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি গঠন করতে না পারলে দায়িত্বে থাকা ওই কমিটি ভেঙে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া প্রতিবেদনে। নতুন করে আবারও সেখানে অ্যাডহক কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। আগের অ্যাডহক কমিটির কোনো সদস্য পরবর্তী কমিটিতে স্থান না দিতেও সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালা-২০০৯ পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। এতে কমিটির সদস্য প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অ্যাডহক কমিটি গঠনে কিছু পরিবর্তন আনাসহ বেশ কয়েকটি পরিবর্তন হতে পারে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শককে আহ্বায়ক করে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় থেকে তা চূড়ান্ত হলে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করি, আগামী তিন মাসের মধ্যে এটির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন-০১৮২২৮১৫৭৪৮

Md Saiful Islam