রোজ মঙ্গলবার, ২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:১২


শিরোনামঃ
বরিশালে ০৭ কেজি গাঁজা সহ আটক ০২ বিঘাই ও পায়রা নদীর ভাঙ্গন হতে শেখ হাসিনা সেনানিবাস এলাকা রক্ষা প্রকল্পটি পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি। চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বরিশালে ৩ কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি আটক ডেন্টালে জাতীয় মেধায় প্রথম হয়েছেন নাসরিন সুলতানা ইভা সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হলেন লাকুটিয়ার সন্তান সৌরভ রায়। মেহেন্দিগঞ্জে গলায় খাবার আটকে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু বরিশালে বিএমপি’র অভিযানে গাঁজাসহ দুই গাঁজা ব্যবসায়ী গ্রেফতার বরিশালে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক দুই। বাবা’র মরণেই দুঃসহ জীবনের শুরু…!
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ একটি আশ্চর্যজনক ও প্রশ্নবোধক পেশায় পরিনত হয়েছে।

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ একটি আশ্চর্যজনক ও প্রশ্নবোধক পেশায় পরিনত হয়েছে।

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ একটি মহান পেশা। এই পেশা কে নিয়ে যারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভিন্নভাবে নেগেটিভ রিউমার ছড়াচ্ছেন তারা আদৌ কি জানেন এরা কারা???

বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীরা ই এই মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। অথবা সরকারী চাকুরির সোনার হরিণ যেসব দূর্ভাগ্যবানদের কাছে ধরা দেয়নি তারাই এই রিপ্রেজেন্টেটিভ।

এরা কাজ করে মানুষের জীবনের জন্য তৈরি অপরিহার্য ঔষধ বিপননে।
ভাবছেন আলু আর পোটল বিক্রির পেশা? নাকি ভাবছেন মামা বাড়ির বানানো মুড়ির মোয়া বিক্রির পেশা?
এই পেশায় রয়েছে অনেক দায়বদ্ধতা।

এর জন্য একজন রিপ্রেজেন্টেটিভ হতেও তাকে মিনিমাম গ্রাজুয়েট হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন। বিজ্ঞান বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ন কারন তাকে জানতে হবে হিউম্যান বডি সম্পর্কে, তাকে জানতে হবে হিউম্যান বডির বিভিন্ন সিস্টেম সম্পর্কে, রোগ, রোগতত্ব,শরীরের কোন অংশে কি রোগ হয়,ওই রোগের কোন ওষুধ দিতে হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি।
মাইক্রোবায়লোজী এবং এন্টিবায়টিক্স সম্পর্কে ঔষধের কাজ করার প্রক্রিয়া, ইনডিকেশন ওষুধের ডোজ, ডোজেজ গাইড লাইন,ডিজিজ প্রোফাইল , ওষুধের সীমাবদ্ধতা সহ অনেক কিছু।

একজন রিপ্রেজেন্টেটিভকে কোম্পানি নূণ্যতম পক্ষে একমাস হিউম্যান বডি এবং ওষুধের ওপর ট্রেনিং করিয়ে তৈরি করে তার কর্মস্থলে প্রেরন করেন।
বর্তমান অনেক বি ফার্ম(ব্যাচেলর অব ফার্মেসী) , এম ফার্ম (মাষ্টার্স অব ফার্মেসী) করা ছাত্র এই পেশায় নিজেদরকে মানিয়ে নিয়েছেন।
অনেক ডাক্তার গন তারা তাদের নিজ পেশায় না গিয়ে এই ঔষধ কোম্পানির প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, ট্রেইনিং ডিপার্টমেন্টে চাকুরি করে এই রিপ্রেজেন্টেটিভদের তৈরি করছেন।

আর আপনারা এই উচ্চ শিক্ষিত কঠোর পরিশ্রমী লোকদের কে কিনা দালাল বলেন। আসলে আপনারা দালালের অর্থই বোঝেন না!!!
যে বা যারা এই পেশা নিয়ে নেগেটিভ চিন্তা করছেন তারা কি একবারের জন্যও ভেবেছেন যদি এই রিপ্রেজেন্টেটিভরা না থাকত,
এই কোম্পানি গুলো না থাকত, তাহলে কি হত ?

কিছুই হতনা! আপনি এখন দেশী ওষুধ যেটা ৫ টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছেন। আপনি সেই একই ওষুধ বিদেশী কোম্পানির ১৫/২০ টাকা বা আরো বেশি দিয়ে কিনে খেতেন।
সহজ উদাহরণ দিলে সহজে বুঝতে পারবেন। কিছুদিন পূর্বেও GSK Pharma বাংলাদেশে ছিল। তখন তাদের খুব পরিচিত প্রডাক্ট Betnovate N ointment যার দাম ছিল মাত্র 5gm ১৮ টাকা এবং 10gm ২৬ টাকা। সেই একই ঔষুধ আপনি এখন পাবেন না। আর পেলেও ৫গুন বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হবে।
অন্যান্য জরুরী ঔষধের কথা বাদই দিলাম।

এখন হাতের নাগালেই সব ওষুধ পাচ্ছেন তখন নির্দিষ্ট দোকান থেকে পুরো মাসের সকল ওষুধ কিনে নিতে হত। যার ফলে এখন যে সম্মান পাচ্ছেন সেটা আর থাকত না।

এটা একটি মনোপলি মার্কেট তৈরি হয়ে যেত।
কোন বিকল্প থাকত না।
আপনার জীবন রক্ষাকারী ওষুধ টি হাজার হাজার টাকা দিয়েও আপনি সঠিক সময় পেতেন না।
কারন ডাক্তার তারঁ রোগীর প্রয়োজনে যেকোন কোম্পানির ঔষধ প্রিসক্রিপশন করবেনই। হোক সেটা দেশী অথবা বিদেশী। দেশী না থাকলে বিদেশী লিখবে।
অনেক জেনেরিক আছে যেটা ডাক্তার পড়াশুনার সময়ে বিশ্ব মার্কেটে ছিলনা পরবর্তি সময়ে আসছে। সেই তথ্যটা শুধু এই রিপ্রেজেন্টেটিভ রা আছে বলেই দ্রুত পায়।
আর রোগীরা পায় কাংখিত সেবা। যেমন নতুন নতুন রোগ বের হচ্ছে ঠিক তেমনি আসছে নতুন নতুন মলিউকুল ও । বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি ই এখন ক্যান্সার সহ নানান জটিল রোগের ঔষধ তৈরি করছে।যা একসময় বাংলাদেশ আমদানি করত ফলে অনেক বেশি দামে কিনতে হত।
এই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও কোম্পানি গুলোর জন্যই আজ সব হাতের মুঠোয়।

এরপরেও যদি মনে করেন এই পেশা খারাপ তবে খারাপ।
প্রত্যেক পেশার কিছু নেগেটিভ দিক থাকবেই।
এই পেশার ও কিছু নেগেটিভ দিক রয়েছে।

প্রিসক্রিপশন একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এটি অবশ্যই অন্যের দেখা ও জানা উচিৎ নয়। তবে রোগী ও কোম্পানির স্বার্থেই প্রিসক্রিপশন দেখতে হয় দেখাতে হয়।
সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরই মার্কেট রিসার্স ও মার্কেটিং স্ট্রাটেজি থাকে। ঔষধ কোম্পানি গুলোও তার ব্যতিক্রম নয়।
কারন ডাক্তারের প্রিসক্রিপশন প্রোফাইল জানা এবং কোন ধরনের রোগের কোন ধরনের ঔষধ লিখেন সেটা যেমন জানা জরুরী ঠিক তেমনি বিশ্ব মার্কেটে এর বিকল্প বা এর চেয়ে ভাল ঔষধ আছে কিনা সেটা জানাও সমান জরুরী।
বিকল্প ভাল ঔষধ বিশ্ব মার্কেটে থাকলে তা বাংলাদেশী কোম্পানি গুলো তৈরি করতে হলে এই তথ্য গুলো দরকার। কারন সেবার পাশাপাশি ব্যবসারও একটি বিষয় জড়িত। কোম্পানি গুলো বিশ্বমার্কেটের ঔষধ আপনাদের হাতের নাগালে তো বিনামূল্যে দিবে না। তাদের হাতে থাকতে হবে পর্যাপ্ত মার্কেট জড়িপ।

আপনি প্রিসক্রিপশন ধরতে দিবেন না তাইলে কোম্পানিগুলো নতুন নতুন ঔষধে কোটি কোটি টাকা ইনভেষ্ট করবে কেন ???

প্রত্যেক চাকুরির একটা অবজেক্টিভ থাকে। ঔষধ কোম্পানির চাকুরির অবজেক্টিভ হল প্রিসক্রিপশন করানো সাথে সাথে ঔষধ বিক্রি করা। যারা বাজে মন্তব্য করছেন তারা নিজের দিকে তাকিয়ে মন্তব্য করবেন কোম্পানী আপনাকে কেন বেতন দিবে? কিসের বিনিময় দিবে? প্রত্যেকটি ছেলে মেয়ে গ্রাজুয়েট। বাজে মন্তব্য করার আগে এই শিক্ষিত আড়াই লক্ষ রিপ্রেজেন্টিটিভ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ফ্যামিলির কর্ম সংস্থান করে মন্তব্য করবেন। আর না হয় আল্লাহ চাইলে এই কাজ আপনার/ আপনার ছেলের দ্বারাও আল্লাহ করিয়ে নিতে পারে। অনেক উদাহরণ আছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,পুলিশ কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন ভাল পেশার ব্যক্তিদের ছেলেরা এবং অনেক বড় পেশার কর্মকর্তাদের প্রথম জীবন কেটেছে এই পেশায়।

তাই আসুন এই সুন্দর মহৎ পেশাকে আরো সুন্দর করতে সম্মিলিত সকলে মিলে একটি সুন্দর নীতিমালা প্রনয়নের জন্য আন্দোলন করি। এই পেশাকে কলংক মুক্ত করি। অন্যকে সম্মান করতে শিখুন, নিজেও সম্মানিত হবেন।

মোঃ সাইফুল ইসলাম
কলামিষ্ট এবং যুগ্ন সম্পাদক ধানসিঁড়ি নিউজ

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন-০১৮২২৮১৫৭৪৮