রোজ রবিবার, ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৫২

বিজিএমইএ ভবন বন্ধ করে দেওয়ার এক দিন পর আবারও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ

বিজিএমইএ ভবন বন্ধ করে দেওয়ার এক দিন পর আবারও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ

বিজিএমইএ ভবন থেকে মালামাল সরাতে আরও সময় পেলেন ১৫ তলা ওই ভবনে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মালিকপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ওই ভবনের তালা খুলে দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালামাল ট্রাকে করে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের মালপত্র থেকে গিয়েছিল। বিকাল ৫টার মধ্যে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক ওয়ালিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “যারা মালামাল সরিয়ে নিতে আবারও আবেদন করেছেন তাদের জন্য আমরা আজকে তালা খুলে দিয়েছি৷ তারা আজ সারাদিন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে আজকেও যদি মালামাল সরিয়ে নেওয়া শেষ না হয়, তারা আবেদন করলে আমরা ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেব।”

ডিবিএল গ্রুপের মালামাল সরানোর কাজ তদারকি করতে আসা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “আজকের মধ্যে সব মালামাল সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছি৷ ৬০০ শ্রমিক কাজ করছে৷ আশা করছি আজকের মধ্যেই পারব।”

ভবনের ষষ্ঠ তলার ক্লিপটন গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, “অনেক আগে হাই কোর্ট নির্দেশ দিলেও বিজিএমইএ আমাদের কোনো নোটিস দেয়নি৷ উত্তরায় স্থায়ী ভবনে যেতে আরও এক মাস সময় লেগে যাবে। এ কয় দিনে আমাদের বেশ ক্ষতিই হল।”

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ২৪ এপ্রিলের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে আর ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বাছাই করা হবে ঠিকাদার। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত’ দেশীয় প্রতিষ্ঠান না পেলে বিদেশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেই ভবনটি ভাঙার দায়িত্ব দেওয়া হবে।

আদালতের রায়ে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকেই ওই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। আর তারা তা না করলে রাজউককে ভবন ভেঙে খরচের টাকা বিজিএমইএর কাছ থেকে আদায় করতে বলা হয়েছিল।

হাতিরঝিলের ভবনটি হারিয়ে এখন ঢাকার উত্তরায় ১১০ কাঠা জমির উপর ১৩ তলা নতুন ভবন তৈরি করছে বিজিএমইএ; গত সপ্তাহে তা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভবন ভাঙার খরচের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিজিএমইএর বিদায়ী সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো কথা হয়নি। সেটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আমরা বসব।”