রোজ মঙ্গলবার, ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৪০

হাসপাতাল পালানো সেই ১০ জনের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পরীক্ষার উদ্যোগ নেই

হাসপাতাল পালানো সেই ১০ জনের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পরীক্ষার উদ্যোগ নেই

নিউজ ডেস্ক:: ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরে হাসপাতাল থেকে পালানো সেই ১০ জনকে ফের হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলেও তাদের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ আছে কিনা তা গবেষণার উদ্যোগ নেই স্বাস্থ্য বিভাগের।

তবে চার জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ওই ১০ জন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে পরিবার ও এলাকায় যেসব মানুষের সংস্পর্শে গেছেন তাদের শনাক্তে কাজ শুরু করছে বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ওই ১০ জনের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে। আরও কারা তাদের সংস্পর্শে এসেছিল তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তবে আক্রান্ত ১০ জনের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।
এর আগে ভারত থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে দশজন রোগী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি’ ছাড়াই পালিয়ে চলে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হয়। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে ফের ফিরিয়ে এনে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ফলে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে। পালিয়ে যাওয়া রোগীরা যদি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বাহক হন তাহলে তা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করেছে চিকিৎসকেরা।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, সম্প্রতি সময়ে ভারতে করোনার দ্রুত সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। এতে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেমনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সচেতন জনগনের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দীলিপ কুমার রায় বলেন, ‘ভারত থেকে আক্রান্ত হয়ে ফেরা ওই ১০ জনের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পরীক্ষা করা হচ্ছে কিনা এটা গণমাধ্যমে বলা যাবে না। এটা স্বাস্থ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যদি কিছু বলার থাকে স্বাস্থ্য বিভাগ ব্রিফ করবে। পালিয়ে যাওয়া ১০ জনের কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সংস্পর্শে আসা ইতোমধ্যে কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে যদি কেউ পজেটিভ হয় তাহলে তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ভাবে জানামতে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পরীক্ষার কোনো মেশিন স্বাস্থ্য বিভাগের এ অঞ্চলে নেই। ফলে এ ব্যাপারে আমি উদ্যোগ নিতে পারিনি। তবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা করবে জানিয়ে নমুনার জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। আমি হাসপাতাল সুপারকে বলে দিয়েছি তারা নমুনা চাইলে দিতে হবে। তবে এখনো নমুনা নিতে আসেনি। কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন বলেন, পালিয়ে যাওয়া ১০ জনের মধ্যে পাঁচ জনের সংস্পর্শে আসা ২৫ জনকে আমরা ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছি। এছাড়াও স্ব-স্ব জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও করোনা পরীক্ষণ দলের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, ‘করোনার যে কোনো ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত ‘জীনোম সিকোয়েন্স মেশিন যবিপ্রবিতেই আছে। যবিপ্রবি’র অনুজীব বিজ্ঞানীরা ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ নিয়ে গবেষণার মনস্থির করেছে। শিগগিরই আমরা ভারত থেকে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করব। তবে পালিয়ে যাওয়া ওই ১০ জনের নমুনা নেব নাকি নতুন করে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে নমুনা নেব তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।