Notice: Trying to access array offset on value of type bool in /home/dnews/public_html/wp-content/plugins/wpecounterx/includes/class-views.php on line 68
কেমন ভিসি চায় ববির শিক্ষার্থীরা?
ঢাকা 12:18 am, Monday, 18 May 2026

কেমন ভিসি চায় ববির শিক্ষার্থীরা?

ধানসিঁড়ি অনলাইন ডেস্ক:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টানা ৩৫ দিন আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত স্বেচ্ছাছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক। গত ২৭মে ছিল উপাচার্যের শেষ কর্মদিবস। শেষ কর্মদিবসেও বিতর্কিত সিন্ডিকেট সভা ডেকে নিজের বিদায় বেলাকেও বিতর্কিত করেছেন তিনি। ববিতে শেষ হয়েছে ইমামুল হক অধ্যায়। নতুন উপাচার্যের জন্য প্রহর গুনছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন উপাচার্যকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে স্বপ্নের বীজ বুনছে ববির শিক্ষার্থীরা।

কেমন উপাচার্য চাচ্ছে ববির শিক্ষার্থীরা…..
উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, “আমরা একজন শিক্ষার্থী বান্ধব উপাচার্য চাই, তিনি শিক্ষার্থীদের কথা আন্তরিকতার সাথে মূল্যায়ণ করবেন। শিক্ষার্থীরা কি চায় সেটা বুঝবেন এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সকল দাবি পূরণে আন্তরিক থাকবেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছে কিন্তু এখনো আমাদের অবকাঠামোজনিত সমস্যায় আছি। আশা করি নতুন উপাচার্য এসে এগুলোর দ্রুত সমাধান দিবেন এবং শিক্ষার্থীদের যে দাবি আছে সেগুলো পূরণ করবেন।”
ছাত্রলীগ নেতা আহমেদ সিফাত বলেন, “একজন উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক তাঁর সম্পূর্ণ ক্যারিয়ারে একবারই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ববিতে আমাদের অবশ্যই এমন একজন ভাইস চ্যান্সেলর প্রয়োজন যিনি নিজের নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্য পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে কাজ করবেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দুইজন ভিসি নিয়োগ পেয়েছিলেন তাদের দুইজনের বিরুদ্ধেই আলাদা আলাদা অভিযোগ ছিল। আমাদের প্রথম ভিসি ড. হারুনুর রশীদ ছিলেন মাই ডিয়ার টাইপের। তার বিনয়ের সুযোগ অনেকেই নিয়েছেন। এরপর আমাদের এই ভিসি ড. ইমামুল হক স্যার এলেন। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি প্রচুর হঠকারী লোক ছিলেন। নিজে যা ভাল মনে করতেন তার বাইরে কোন কথা শুনতেন না। তিনি আরে বলেন, “আশা করি আগামীতে আমাদের যে ভাইস চ্যান্সেলর আসবেন তিনি এই দুটি বিষয়েই সচেতন থাকবেন। ববিতে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ববির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খুব দুঃখ নিয়ে বলতে হয় যে ভিসিই আসুক না কেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক-কর্মকর্তারা তাকে এমন রাজনীতিতে জড়িয়ে ফেলেন যে ছাত্রদের কথা ভিসি প্রায় ভুলেই বসেন। মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়কে অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ করতে হবে। তিনি যদি ছাত্রদের পক্ষে কাজ করেন তবে তাকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব ছাত্ররাই পালন করবে। শাসন এবং শোষণের মাঝের অন্তরায় বুঝে যেন আমাদের আগামীর ভিসি মহোদয় কাজ করবেন এই আশাই রাখি।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলীম সালেহী বলেন, “আমরা একজন শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য চাই যিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বৃদ্ধি করবেন ও সুনাম অর্জন করবেন । আমরা এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি সুপরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসকে সাজাবেন ও সবুজায়ন করবেন। আমাদের প্রস্তাবিত স্বপ্নের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এর দাবি বাস্তবায়ন করবেন এমন একজন উপাচার্য চাই আমরা।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ অভিমুন্য বলেন, “আমরা এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি হবেন শিক্ষা বান্ধব। তিনি নিজে গবেষণা করবেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে খোয়ার নয়, মুক্ত চিন্তার কেন্দ্রস্থল বানাবেন।বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবল জ্ঞান চর্চাস্থল বানানোই যার ব্রত হবে। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীকার সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে সচেতন থাকবেন। এমন একজন উপাচার্য কেই আমরা চাই।”
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজা-উর রহমান রাজু বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্ত জ্ঞানচর্চার উন্মুক্ত জায়গা, চিন্তা বিবেকের স্বাধীনতার জায়গা, বিশ্বমানের শিক্ষার জায়গা এবং সকল ধরনের অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদের যায়গা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় চলমান সকল সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ববিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন একজন শিক্ষককেই আমরা উপাচার্য হিসেবে পেতে চাই।”
মো. আল-আমীন বলেন, “দক্ষিনবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্নের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের চাওয়া ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে আধুনিক মানের এবং ক্যাম্পাস হবে দৃষ্টিনন্দন সবুজ ক্যাম্পাস। কিন্তু সাবেক দুই ভিসি শিক্ষার্থীদের সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সাথে দুরত্ব, স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী ও নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে সদ্য বিদায়ী ভিসি এস এম ইমামুল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। তাই শিক্ষার্থীরা এমন একজন শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে চায় যিনি হবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, শিক্ষার্থী বান্ধব, সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নই হবে যার লক্ষ্য।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমন ভিসি চায় ববির শিক্ষার্থীরা?

আপডেট সময় : 10:01:04 pm, Wednesday, 29 May 2019

ধানসিঁড়ি অনলাইন ডেস্ক:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টানা ৩৫ দিন আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত স্বেচ্ছাছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক। গত ২৭মে ছিল উপাচার্যের শেষ কর্মদিবস। শেষ কর্মদিবসেও বিতর্কিত সিন্ডিকেট সভা ডেকে নিজের বিদায় বেলাকেও বিতর্কিত করেছেন তিনি। ববিতে শেষ হয়েছে ইমামুল হক অধ্যায়। নতুন উপাচার্যের জন্য প্রহর গুনছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন উপাচার্যকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে স্বপ্নের বীজ বুনছে ববির শিক্ষার্থীরা।

কেমন উপাচার্য চাচ্ছে ববির শিক্ষার্থীরা…..
উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, “আমরা একজন শিক্ষার্থী বান্ধব উপাচার্য চাই, তিনি শিক্ষার্থীদের কথা আন্তরিকতার সাথে মূল্যায়ণ করবেন। শিক্ষার্থীরা কি চায় সেটা বুঝবেন এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সকল দাবি পূরণে আন্তরিক থাকবেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছে কিন্তু এখনো আমাদের অবকাঠামোজনিত সমস্যায় আছি। আশা করি নতুন উপাচার্য এসে এগুলোর দ্রুত সমাধান দিবেন এবং শিক্ষার্থীদের যে দাবি আছে সেগুলো পূরণ করবেন।”
ছাত্রলীগ নেতা আহমেদ সিফাত বলেন, “একজন উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক তাঁর সম্পূর্ণ ক্যারিয়ারে একবারই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ববিতে আমাদের অবশ্যই এমন একজন ভাইস চ্যান্সেলর প্রয়োজন যিনি নিজের নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্য পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে কাজ করবেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দুইজন ভিসি নিয়োগ পেয়েছিলেন তাদের দুইজনের বিরুদ্ধেই আলাদা আলাদা অভিযোগ ছিল। আমাদের প্রথম ভিসি ড. হারুনুর রশীদ ছিলেন মাই ডিয়ার টাইপের। তার বিনয়ের সুযোগ অনেকেই নিয়েছেন। এরপর আমাদের এই ভিসি ড. ইমামুল হক স্যার এলেন। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি প্রচুর হঠকারী লোক ছিলেন। নিজে যা ভাল মনে করতেন তার বাইরে কোন কথা শুনতেন না। তিনি আরে বলেন, “আশা করি আগামীতে আমাদের যে ভাইস চ্যান্সেলর আসবেন তিনি এই দুটি বিষয়েই সচেতন থাকবেন। ববিতে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ববির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খুব দুঃখ নিয়ে বলতে হয় যে ভিসিই আসুক না কেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক-কর্মকর্তারা তাকে এমন রাজনীতিতে জড়িয়ে ফেলেন যে ছাত্রদের কথা ভিসি প্রায় ভুলেই বসেন। মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়কে অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ করতে হবে। তিনি যদি ছাত্রদের পক্ষে কাজ করেন তবে তাকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব ছাত্ররাই পালন করবে। শাসন এবং শোষণের মাঝের অন্তরায় বুঝে যেন আমাদের আগামীর ভিসি মহোদয় কাজ করবেন এই আশাই রাখি।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলীম সালেহী বলেন, “আমরা একজন শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য চাই যিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বৃদ্ধি করবেন ও সুনাম অর্জন করবেন । আমরা এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি সুপরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসকে সাজাবেন ও সবুজায়ন করবেন। আমাদের প্রস্তাবিত স্বপ্নের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এর দাবি বাস্তবায়ন করবেন এমন একজন উপাচার্য চাই আমরা।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ অভিমুন্য বলেন, “আমরা এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি হবেন শিক্ষা বান্ধব। তিনি নিজে গবেষণা করবেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে খোয়ার নয়, মুক্ত চিন্তার কেন্দ্রস্থল বানাবেন।বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবল জ্ঞান চর্চাস্থল বানানোই যার ব্রত হবে। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীকার সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে সচেতন থাকবেন। এমন একজন উপাচার্য কেই আমরা চাই।”
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজা-উর রহমান রাজু বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্ত জ্ঞানচর্চার উন্মুক্ত জায়গা, চিন্তা বিবেকের স্বাধীনতার জায়গা, বিশ্বমানের শিক্ষার জায়গা এবং সকল ধরনের অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদের যায়গা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় চলমান সকল সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ববিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন একজন শিক্ষককেই আমরা উপাচার্য হিসেবে পেতে চাই।”
মো. আল-আমীন বলেন, “দক্ষিনবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্নের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের চাওয়া ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে আধুনিক মানের এবং ক্যাম্পাস হবে দৃষ্টিনন্দন সবুজ ক্যাম্পাস। কিন্তু সাবেক দুই ভিসি শিক্ষার্থীদের সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সাথে দুরত্ব, স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী ও নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে সদ্য বিদায়ী ভিসি এস এম ইমামুল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। তাই শিক্ষার্থীরা এমন একজন শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে চায় যিনি হবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, শিক্ষার্থী বান্ধব, সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নই হবে যার লক্ষ্য।