রোজ শনিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৪৭

ঈদ যাত্রায় লক্কর-ঝক্কর ফিটনেসবিহীন বাস ঘষামাজা করে যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুতি

ঈদ যাত্রায় লক্কর-ঝক্কর ফিটনেসবিহীন বাস ঘষামাজা করে যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুতি

ধানসিঁড়ি নিউজ ডেস্ক:

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন বাকি। ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজধানীতে বসবাসকারী বিভিন্ন জেলার মানুষ। ঈদ সামনে রেখে বসে নেই পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় বাস মেরামতের কাজ।
বরাবরই ঈদযাত্রায় ভোগান্তির নাম ফিটনেসবিহীন বাস। যাত্রাপথে ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি। বিকল যানবাহনের যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে। বিকল পরিবহনের পেছনের পরিবহনগুলোও থমকে যায়। সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর কারণও ফিটনেসবিহীন বাস। ফিটনেসবিহীন পরিবহন চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারির মধ্যে এবারও ঈদ সামনে রেখে সড়ক-মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন, লক্কড়-ঝক্কড় বাস নামানোর পুরোদমে তোড়জোড় চলছে।
রাজধানীর নিকটস্থ জেলা শহরে এবং রাজধানীর বিভিন্ন রুটে গেটলক হিসেবে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলো প্রতি বছরই ঈদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী জেলায় চলাচল করে। এবারও প্রস্তুতি চলছে এসব পরিবহনের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রেক, চাকা, স্টিয়ারিং, গিয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ পার্টস দুর্বল থাকায় অনেক সময়ই চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা।
ফিটনসেবিহীন পরিবহনের পরিসংখ্যান নেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে অন্যান্য বছরের মতো ভোগান্তি হবে না। রুট পারমিট ছাড়া এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো পরিবহন চলতে দেয়া হবে না।

রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের পেছনে খালের পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, রঙচটা, লক্কড়-ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন বাস সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়ার্কশপ নেই কিন্তু সেখানে কাজ চলছে পুরোদমে। এ অবস্থা শুধু গাবতলী এলাকায়ই নয়, রাজধানীর আমিন বাজার, মিরপুর, কোর্টবাড়ি, ডেমরা, কাজলা, শনির আখড়া, উত্তরার কামারপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে।
গাবতলী বেড়িবাঁধের সড়ক দিয়ে সামনে এগুলেই অনেকগুলো ওয়ার্কশপ। কোনোটার নাম আছে কোনোটার নেই। সবখানে বাসের সংখ্যাই বেশি। রবরব, ইতিহাস, শান্তি পরিবহন, এসপি গোল্ডেন পরিবহন, ইসলাম পরিবহন, ওয়েলকাম, আলম, শ্যামলী হানিফ, ডিপজল, সেন্টমার্টিন, সৌদিয়া, ইউনিক পরিবহনসহ অসংখ্য পরিবহনের বাস মেরামত ও রঙ লাগানোর কাজ করতে দেখা যায়। সেখানে অধিকাংশ গাড়িতেই দেখা গেছে রঙের কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। শরিফুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘ঢাকায় চলা সিটিং বাসগুলো বেশি আসছে এখানে।’
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, কাজলা এলাকায়ও ছোটবড় ওয়ার্কশপে চলছে মেরামতের কাজ। সালাম অটোস, মিতালী ইঞ্জিনিয়ারিং মোটর ওয়ার্কস, বিসমিল্লাহ অটোমোবাইলস, মাতুয়াইল ইঞ্জিনিয়ারিং মোটর ওয়ার্কস, কবির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, বেঙ্গল বডি বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে ঈদযাত্রার জন্য আনফিট বাসে জৌলুস ফেরাতে মেরামতের কাজে ব্যস্ত শতাধিক পরিবহন শ্রমিক ও মিস্ত্রি।
ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন সম্পর্কে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সড়ক-মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। বিগত ঈদযাত্রায় দেখেছি সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন পরিবহন। এবার সেই তোড়জোড় চলছে। আমাদের পেশ করা ২০ দফা দাবির প্রথমটাই হচ্ছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা। দুঃখজনক যে, এ ব্যাপারে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের তৎপরতা নেই।’
তবে পরিবহন বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, কেউ আনফিট বাস রাস্তায় নামাতে পারবেন না। তবে ফিটনেস শুধু বাসের কালারে না যান্ত্রিক ফিটনেসটাই মেইন। রঙ নষ্ট হওয়া বাসে কেউ রঙ করতে চাইলে তো বাধা দেয়া যায় না।’
এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইকসহ ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া যানবাহন না থামানোর জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিআরটিএ পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার লোকমান হোসেন মোল্লা জাগো বলেন, ‘এবার আনফিট গাড়ি কোনোভাবেই চলতে দেয়া হবে না। আমরা হাইওয়ে পুলিশকে ‘হ্যান্ড হেল্ড’ নামক ডিভাইস সরবরাহ করেছি। মহাসড়কে সন্দেহভাজন বাসের সামনের গ্লাসে অথবা নম্বর প্লেটে লাইট ধরলেই সিগন্যাল যাবে ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে কী নেই। থাকলে চলবে নইলে চলবে না। আর রঙের চেয়ে যান্ত্রিক ফিটনেসকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাস এবার চলতে দেয়া হবে না। আশা করছি, এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।’