Notice: Trying to access array offset on value of type bool in /home/dnews/public_html/wp-content/plugins/wpecounterx/includes/class-views.php on line 68
নয়ন বন্ডের লাশ দাফন করতে দেয়নি গ্রামবাসী পটুয়াখালীর নিজ গ্রামে
ঢাকা 12:18 am, Thursday, 16 July 2026

নয়ন বন্ডের লাশ দাফন করতে দেয়নি গ্রামবাসী পটুয়াখালীর নিজ গ্রামে

অনলাইন ডেস্কঃ দেশব্যাপী বর্তমানে আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন বন্ডের মরদেহ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার পশ্চিম সীমান্তে গলাচিপা উপজেলার ৮ নম্বর বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাঁশবাড়িয়া গ্রামে নয়ন বন্ডের বাবার বাড়িতে দাফন করতে দেয়নি দশমিনা উপজেলাবাসী।
গ্রামবাসীর আপত্তির তোপের মুখে নয়ন বন্ডের মরদেহ পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে না নিয়ে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের বুরজির হাটখোলা গ্রামে তার মামা বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নয়ন বন্ডের চাচা লিটন মোল্লা বলেন, ‘‘নয়নকে আমি দেখিনি। তার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। বাড়ির সবাই নয়ন বন্ডের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে নিষেধ করে দিয়েছে। নয়ন বন্ডের ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের বাড়ির কেহই নয়ন বন্ডকে আত্মীয় পরিচয় দিতে চাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তার মামার বাড়িতে মরদেহ দাফন করা হয়। অল্প কিছু মানুষ তার দাফনে অংশ নেয়।
মরদেহ হস্তান্তরকারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের বুরজির হাটখোলা গ্রামে নয়নের মামা বাড়িতে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নয়নের মরদেহ তার মামা মিজানুর রহমান বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রহণ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পটুয়াখালী নেয়া শুরু করলে সেখান থেকে খবর আসে, খুনির মরদেহ সেখানে দাফন করতে দেবে না এলাকাবাসী। এ অবস্থায় মিজানুর রহমানের নিজের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায় নয়নকে দাফন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সন্ধ্যায় তার বাড়িতে নয়ন বন্ডের মরদেহ দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে বরগুনার পুরাকাটার পায়রা নদীর পাড়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রিফাত হত্যার অন্যতম প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুটি শটগানের গুলির খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এএসপি শাজাহানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নয়ন বন্ডের লাশ দাফন করতে দেয়নি গ্রামবাসী পটুয়াখালীর নিজ গ্রামে

আপডেট সময় : 11:10:14 pm, Tuesday, 2 July 2019

অনলাইন ডেস্কঃ দেশব্যাপী বর্তমানে আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন বন্ডের মরদেহ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার পশ্চিম সীমান্তে গলাচিপা উপজেলার ৮ নম্বর বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাঁশবাড়িয়া গ্রামে নয়ন বন্ডের বাবার বাড়িতে দাফন করতে দেয়নি দশমিনা উপজেলাবাসী।
গ্রামবাসীর আপত্তির তোপের মুখে নয়ন বন্ডের মরদেহ পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে না নিয়ে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের বুরজির হাটখোলা গ্রামে তার মামা বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নয়ন বন্ডের চাচা লিটন মোল্লা বলেন, ‘‘নয়নকে আমি দেখিনি। তার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। বাড়ির সবাই নয়ন বন্ডের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে নিষেধ করে দিয়েছে। নয়ন বন্ডের ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের বাড়ির কেহই নয়ন বন্ডকে আত্মীয় পরিচয় দিতে চাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তার মামার বাড়িতে মরদেহ দাফন করা হয়। অল্প কিছু মানুষ তার দাফনে অংশ নেয়।
মরদেহ হস্তান্তরকারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের বুরজির হাটখোলা গ্রামে নয়নের মামা বাড়িতে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নয়নের মরদেহ তার মামা মিজানুর রহমান বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রহণ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পটুয়াখালী নেয়া শুরু করলে সেখান থেকে খবর আসে, খুনির মরদেহ সেখানে দাফন করতে দেবে না এলাকাবাসী। এ অবস্থায় মিজানুর রহমানের নিজের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায় নয়নকে দাফন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সন্ধ্যায় তার বাড়িতে নয়ন বন্ডের মরদেহ দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে বরগুনার পুরাকাটার পায়রা নদীর পাড়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রিফাত হত্যার অন্যতম প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুটি শটগানের গুলির খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এএসপি শাজাহানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।