ঢাকা 8:15 pm, Wednesday, 11 March 2026

জ্বীন তাড়ানো নামে এক ব্যক্তিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা

নিউজ ডেস্ক: বরিশালের বাকেরগঞ্জে চিকিৎসার নামে এক ব্যক্তিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কথিত ফকিরের বিরুদ্ধে। জ্বীনের আছর ছাড়ানোর নামে গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারী) দুই দফা তাকে পানিতে চুবিয়ে লুকিয়ে রাখার পর ওই রাতেই তার লাশ পার্শ্ববর্তী বাগানে ফেলে রাখে তারা।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত রিয়াজ ফকির ও তার সহযোগীরা আত্মগোপন করলেও রিয়াজের বোন অনিকা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
মৃতের নাম কালাম মৃধা (৪৮)। সে পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মৃত তুজম্বর মৃধার ছেলে।
নিহত কালামের স্ত্রী পারভীন বেগম (৩০) জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তার স্বামী অস্বাভাবিক আচরন করছিলো। জ্বীনে ধরেছে ধারনা করে জ্বীনের আছর ছাড়াতে স্বামীকে নিয়ে গত শুক্রবার সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের রিয়াজ ফকিরের কাছে নিয়ে যান। ওইদিন সকাল ১০ টায় এবং বিকেল ৪টায় রিয়াজ ফকির তার বাড়ির পুকুরে দুই দফা তার স্বামীকে চুবায় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে। এতে কালাম মৃধা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে রিয়াজ ফকির একটি ঘরে আটকে রাখে। ওই রাতে তার স্বামীকে রিয়াজ ফকির তার বোন অনিকার বাসায় লুকিয়ে রাখে এবং তার স্ত্রীকে স্বামী সুস্থ্য আছে বলে জানায়। রাতেই কালামের মৃত্যু হলে রিয়াজ ফকির বাড়ির পাশে একটি বাগানে নিয়ে তার লাশ ফেলে রাখে। গতকাল সকালে প্রতিবেশীরা বাগানে একটি লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের বরিশাল মর্গে প্রেরন করে।
স্থানীয়রা জানান, রিয়াজ ফকির ও চাচাতো ভাই অসীম ফকির গাউছে আজম হযরত কালু শাহ্ দেওয়ান মাজার শরীফের অন্তরালে দির্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছিলো।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কালামকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে এবং শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার পর তার লাশ বাগানে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে কথিত ফকির রিয়াজের বিরুদ্ধে। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। অভিযুক্ত রিয়াজ ফকির ও সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বোন অনিকা বেগমকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত পলাতকদের আটকের চেস্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের সহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন পুলিশ সুপার।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বীন তাড়ানো নামে এক ব্যক্তিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : 05:06:06 pm, Saturday, 1 February 2020

নিউজ ডেস্ক: বরিশালের বাকেরগঞ্জে চিকিৎসার নামে এক ব্যক্তিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কথিত ফকিরের বিরুদ্ধে। জ্বীনের আছর ছাড়ানোর নামে গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারী) দুই দফা তাকে পানিতে চুবিয়ে লুকিয়ে রাখার পর ওই রাতেই তার লাশ পার্শ্ববর্তী বাগানে ফেলে রাখে তারা।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত রিয়াজ ফকির ও তার সহযোগীরা আত্মগোপন করলেও রিয়াজের বোন অনিকা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
মৃতের নাম কালাম মৃধা (৪৮)। সে পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মৃত তুজম্বর মৃধার ছেলে।
নিহত কালামের স্ত্রী পারভীন বেগম (৩০) জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তার স্বামী অস্বাভাবিক আচরন করছিলো। জ্বীনে ধরেছে ধারনা করে জ্বীনের আছর ছাড়াতে স্বামীকে নিয়ে গত শুক্রবার সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের রিয়াজ ফকিরের কাছে নিয়ে যান। ওইদিন সকাল ১০ টায় এবং বিকেল ৪টায় রিয়াজ ফকির তার বাড়ির পুকুরে দুই দফা তার স্বামীকে চুবায় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে। এতে কালাম মৃধা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে রিয়াজ ফকির একটি ঘরে আটকে রাখে। ওই রাতে তার স্বামীকে রিয়াজ ফকির তার বোন অনিকার বাসায় লুকিয়ে রাখে এবং তার স্ত্রীকে স্বামী সুস্থ্য আছে বলে জানায়। রাতেই কালামের মৃত্যু হলে রিয়াজ ফকির বাড়ির পাশে একটি বাগানে নিয়ে তার লাশ ফেলে রাখে। গতকাল সকালে প্রতিবেশীরা বাগানে একটি লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের বরিশাল মর্গে প্রেরন করে।
স্থানীয়রা জানান, রিয়াজ ফকির ও চাচাতো ভাই অসীম ফকির গাউছে আজম হযরত কালু শাহ্ দেওয়ান মাজার শরীফের অন্তরালে দির্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছিলো।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কালামকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে এবং শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার পর তার লাশ বাগানে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে কথিত ফকির রিয়াজের বিরুদ্ধে। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। অভিযুক্ত রিয়াজ ফকির ও সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বোন অনিকা বেগমকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত পলাতকদের আটকের চেস্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের সহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন পুলিশ সুপার।