ঢাকা 10:50 am, Saturday, 7 March 2026

থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে এক মাসের সাজা

চকরিয়া-পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি// কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিচারপ্রার্থী এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) এবং তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)।
অভিযোগ ঘুষ ও নির্যাতনের
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুবাইদার পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে চকরিয়া আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব। অভিযোগ রয়েছে, জুবাইদার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই পল্লব তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরে তিনি উল্টো বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেন।
এ বিষয়ে জানতে এবং টাকা ফেরত চাইতে জুবাইদা ও তার মা থানায় গেলে এসআই পল্লবের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এক পর্যায়ে তাদের মারধর করে থানার গেট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলমকে খবর দিলে তিনি থানায় এসে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগম (৬০) বলেন,
“আমি জুবাইদা ও তার মায়ের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলাম। সেখানে এসআই পল্লবের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলতে শুনি। তখন তারা বলছিলেন যে তদন্ত প্রতিবেদনের পক্ষে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে প্রতিবেদন বিপক্ষে দেওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তাদের মারধর করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “পরে থানায় থাকা অন্য সেবাপ্রার্থীদের বের করে দেওয়া হয় এবং মা-মেয়েকে মারধর করা হয়। এরপর ইউএনও এসে তাদের কথা না শুনেই এক মাসের সাজা দেন।”
পরিবারের অভিযোগ
ঘটনার খবর পেয়ে জুবাইদার পরিবার থানায় গেলে তাদের সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও খালা আমেনা মুন্নী বলেন,
“আমার বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উল্টো দিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে মারধর করে আবার ইউএনও ডেকে এনে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইউএনওর বক্তব্য
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন,
“থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় তদন্ত করে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে।”
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়টি পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে। খারাপ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন,
“থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এদিকে অভিযুক্ত এসআই পল্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে এক মাসের সাজা

থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে এক মাসের সাজা

আপডেট সময় : 01:41:32 pm, Friday, 6 March 2026

চকরিয়া-পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি// কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিচারপ্রার্থী এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) এবং তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)।
অভিযোগ ঘুষ ও নির্যাতনের
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুবাইদার পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে চকরিয়া আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব। অভিযোগ রয়েছে, জুবাইদার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই পল্লব তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরে তিনি উল্টো বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেন।
এ বিষয়ে জানতে এবং টাকা ফেরত চাইতে জুবাইদা ও তার মা থানায় গেলে এসআই পল্লবের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এক পর্যায়ে তাদের মারধর করে থানার গেট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলমকে খবর দিলে তিনি থানায় এসে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগম (৬০) বলেন,
“আমি জুবাইদা ও তার মায়ের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলাম। সেখানে এসআই পল্লবের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলতে শুনি। তখন তারা বলছিলেন যে তদন্ত প্রতিবেদনের পক্ষে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে প্রতিবেদন বিপক্ষে দেওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তাদের মারধর করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “পরে থানায় থাকা অন্য সেবাপ্রার্থীদের বের করে দেওয়া হয় এবং মা-মেয়েকে মারধর করা হয়। এরপর ইউএনও এসে তাদের কথা না শুনেই এক মাসের সাজা দেন।”
পরিবারের অভিযোগ
ঘটনার খবর পেয়ে জুবাইদার পরিবার থানায় গেলে তাদের সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও খালা আমেনা মুন্নী বলেন,
“আমার বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উল্টো দিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে মারধর করে আবার ইউএনও ডেকে এনে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইউএনওর বক্তব্য
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন,
“থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় তদন্ত করে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে।”
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়টি পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে। খারাপ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন,
“থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এদিকে অভিযুক্ত এসআই পল্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।