নিজস্ব প্রতিবেদক: এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে দেশজুড়ে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকাল থেকেই মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে। নামাজ শেষে একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির অনন্য দৃশ্য।
ভোরের আলো ফুটতেই নতুন পোশাকে সেজে ওঠেন সব বয়সী মানুষ। নগর থেকে গ্রাম—সবখানেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মাঝে ঈদের আনন্দ যেন অন্য মাত্রা পায়। ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত শেষে দোয়া ও মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। পুরো রমজান মাসে আত্মসংযম, ত্যাগ ও সহমর্মিতার যে শিক্ষা অর্জিত হয়, ঈদ সেই শিক্ষাকে সমাজে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়। এরই অংশ হিসেবে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায় এই উৎসব। ঈদের আগে ফিতরা প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় সমাজের অসচ্ছল মানুষও ঈদের আনন্দে সামিল হওয়ার সুযোগ পায়।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করছেন জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে।
এদিকে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরাও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। প্রযুক্তির এই যুগে দূরত্ব থাকলেও হৃদয়ের টান যেন অটুট থাকে।
সব মিলিয়ে, ঈদুল ফিতর শুধু আনন্দের উৎসবই নয়, বরং এটি সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার এক মহামিলন। এই উৎসবের চেতনা ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যাশা সকলের।
মোঃ সাইফুল ইসলাম 











